নিজস্ব সংবাদদাতা, নবদ্বীপ:
দেবাদিদেব মহাদেবের বিয়ে মানেই নবদ্বীপে এক অনন্য লোকজ উৎসব। ধর্মীয় আচার ছাপিয়ে এই অনুষ্ঠান এখন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এবছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শিব-পার্বতীর এই প্রতীকী বিবাহকে ঘিরে শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত উৎসবে মেতে ওঠে গোটা শহর।
অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয় জমজমাট পরিবেশ। বর ও কন্যাপক্ষের উদ্যোগে সাজানো হয় সুসজ্জিত মণ্ডপ। সাধারণ বাঙালি বিয়ের আদলে সাজানো এই আয়োজনে নজর কেড়েছে প্রতীকী ‘যৌতুক’-এর প্রদর্শনী। সেখানে রাখা ছিল টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, এসি, ওয়াশিং মেশিন, আলমারি, আসবাবপত্র থেকে শুরু করে মোটরবাইক—নিত্যপ্রয়োজনীয় একাধিক সামগ্রী। যদিও আয়োজকদের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণরূপে লোকাচার ও প্রতীকী রীতির অংশ, বাস্তব জীবনের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
নবদ্বীপের বুড়োশিবতলা এলাকার শিবমন্দির চত্বরে আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিয়ের আচার। গভীর রাতে ব্রহ্মমুহূর্তে বাদ্যযন্ত্র, ঢাকের তালে এবং পটকার শব্দে বরের বেশে আগমন করেন মহাদেব। বেহারাদের কাঁধে চড়ে তাঁর এই আগমন দেখতে ভিড় জমায় অসংখ্য দর্শক।
অন্যদিকে নববধূর সাজে সজ্জিত করা হয় দেবী পার্বতীকে। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে সম্পন্ন হয় মালাবদল, সাতপাক ও অন্যান্য বৈদিক রীতি। চার হাত এক হওয়ার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ হয় এই ঐতিহ্যবাহী বিবাহ অনুষ্ঠান।
রাতভর চলে উৎসবের আমেজ। কোথাও ঢাকের তালে নাচ, কোথাও ব্যান্ডপার্টির সুরে মেতে ওঠেন ভক্তরা। বরযাত্রীদের আপ্যায়নেও ছিল বিশেষ আয়োজন—লুচি, তরকারি, সবজি, মিষ্টি, বোদে থেকে শুরু করে খিচুড়ির ব্যবস্থাও ছিল বিভিন্ন স্থানে।
সব মিলিয়ে, নবদ্বীপের এই শিব-পার্বতীর বিয়ে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়—এটি এক জীবন্ত লোকসংস্কৃতি, যেখানে আচার, আনন্দ ও সামাজিক ঐতিহ্য মিলেমিশে এক অনন্য আবহ তৈরি করে।
ছবি: কাজল বসাক

Be the first to comment