রোজদিন ডেস্ক : আজ ২৫ জুন জাতীয় ভোটার দিবস। দিনটি পালন করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই ভূমিকা দেখেই তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে তিনি একটি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি কমিশনকে আক্রমণ করে লেখেন, কমিশনের ভোটার দিবস পালন একটা করুণ প্রহসনের মতো লাগছে। কমিশনকে হিজ মাস্টার্স ভয়েজের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এই কমিশন মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করছে, যা দেখে তিনি বলেন, তাঁদের এই ঔদ্ধত্য দেখে আমি স্তম্ভিত, বিষ্মিত, বিচলিত। আরও আক্রমণ করে তিনি বলেন, এরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করার পরিবর্তে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির অজুহাতে মানুষের ওপর অত্যাচার করছে, মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, নিজেদের প্রভু বিজেপির কথায় তাঁরা বিরোধীদের ধ্বংস করতে চায়।
এক্স হ্যান্ডলে তিনি এই দীর্ঘ পোস্টে লেখেন—
“ভারতের নির্বাচন কমিশন আজ জাতীয় ভোটার দিবস পালন করছেন এবং সেটাকে একটি করুণ প্রহসনের মতো দেখাচ্ছে। হিজ মাস্টার্স ভয়েস হিসেবে কমিশন এই মুহূর্তে মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করতে ব্যস্ত, এবং তাদের ঔদ্ধত্য হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস পালন করার— আমি এতে স্তম্ভিত, বিস্মিত, বিচলিত।
মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করার পরিবর্তে এবং বিধি-নিয়ম অনুসারে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন এখন লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির নামে নতুন-নতুন অজুহাত তৈরি করে চলেছে। মানুষকে অত্যাচার করা হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে! তাদের প্রভু বিজেপি-র হয়ে তারা বিরোধীদের ধ্বংস করতে চায় এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিমূলে আঘাত করতে চায়। এদেরই আবার সাহস হচ্ছে ভোটার দিবস উদযাপন করার!!
নির্বাচন কমিশনকে বলি: আপনারা মানুষকে অভূতপূর্ব অত্যাচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন, আপনাদের অত্যাচারের ফলেই এখনও পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। আপনারা যেভাবে ৮৫, ৯০, ৯৫ বছরের মানুষকে ডেকে পাঠাচ্ছে এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষকেও আপনাদের সামনে হাজির হতে বাধ্য করছেন তা করার অধিকার কি আপনাদের আছে? এই বেআইনি চাপ ও নিগ্রহের ফলেই আত্মহত্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে এবং আপনারা এটা করছেন আপনাদের রাজনৈতিক প্রভুর নির্দেশে ও স্বার্থে।
এটাকে আপনারা নাগরিকদের জন্য NRC প্রক্রিয়া বানিয়ে তুলেছেন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তপশিলি জাতি ও জনজাতির মানুষের জন্য এটা বিশেষ পীড়ার কারণ হয়েছে।
নির্বাচন হল গণতন্ত্রের উৎসব। কিন্তু আপনাদের পক্ষপাত-দুষ্ট আচরণ এবং একতরফা বেআইনি কান্ডকারখানা, মাইক্রো অবজার্ভার প্রভৃতিদের দলে দলে পাঠিয়ে সেই নিগ্রহ বৃদ্ধি এবং মানুষকে দলে দলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া পরিণতিতে আমাদের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। ভোটার দিবস পালনের কোনও অধিকার আপনাদের আজ নেই।”

Be the first to comment