আমি থাকতে আপনাদের একজনের নামও বাদ যাবে না, এটা আমার শপথ, বনগাঁর সভায় জননেত্রী মমতার আশ্বাস

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : ২০২৪-এ যারা ভোট দিয়েচেন। আমি থাকতে তাদের একজনের নামও বাদ যাবে না। আমি বাংলার মা, মাটি, মানুষকে ভালবাসি। এটা আমার শপথ। আপনারা শুধু ভয় পাবেন না। আমি আছি। বনগাঁর ত্রিকোণ পার্কের সভা থেকে এই ভাষাতেই মতুয়া সমাজকে আশ্বস্ত করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই কপ্টার নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, আমার আসতে দেরি হয়েছে। ক্ষমা চাইছি। আমি ৭-৮ মাস কপ্টার ব্যবহার করি না। গাড়িতে গাড়িতে ঘুরি। আমাদের সরকারের একটা হেলিকপ্টার নেওয়া আছে। হঠাৎ খবর এল কপ্টারটা যাবে না। আমি দেখলাম দারুণ মজা। ভোটই শুরু হল না, তার মধ্যে চক্রান্ত শুরু হয়ে গেল। একদিকে ভালোই হয়েছে রাস্তায় আসতে আসতে আমার জনসংযোগ হয়ে গেল। আমি বিজেপিকে বারবার বলি আমার সঙ্গে খেলতে যাস না। আমি যে খেলাটা খেলব, ধরতেও পারবে না। ছুঁতেও পারবে না। তিনি বলেন, এসআইআর হবে না, এটা আমরা বলিনি। আমরা বলেছি, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়। এসআইআর করতে ৩ বছর সময় লাগে। আপনারা ২ মাসে করতে চাইছেন। ভোটের আগে গায়ের জোর দেখিয়ে এসআইআর। আমাকেও আধার কার্ড করতে হয়েছে। এখন বলছে এসব লাগবে না। নো আধার কার্ড, নো প্যান কার্ড, নো রেশন কার্ড, নো স্বাস্থ্য সাথী, নো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, শুধু ইয়েস বিজেপি। এতদিন জানতাম মানুষ সরকার নির্বাচন করে।

এখন দেখছি, সরকার কারা ভোট দেবে সেটা নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ঠিক করছে। নির্বাচন কমিশন ভুলে যাচ্ছে৷ ওটা একটা ইমপারশিশাল চেয়ার। মমতা বলেন, বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি? দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে ভালোবাসি। কারণ আমাদের ভাষা এক। যাঁরা বাংলাদেশি তাঁরা বাংলায় কথা বলে অভ্যস্ত, হঠাৎ কী করে বদলাবে? আমি বীরভূমে জন্মেছি নইলে আমাকেও বাংলাদেশি বলে দিত। বৈধ ভোটারের কোনও ভয় নেই। ভয় পাবেন না। বিজেপি ভয় দেখিয়ে প্রচার করছে। আমি থাকতে কারও গায়ে হাত দিতে দেব না।
এরপরই নাম না করে শান্তনু ঠাকুরদের দেওয়া মতুয়াদের ভুয়ো সার্টিফিকেটের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বলেন, আপনাদের প্রতারণা করছে, এর বড় শাস্তি হওয়া উচিত। কমিশনের নথির তালিকায় লিখতে বলুন। ওই সার্টিফিকেটে লিখে দিচ্ছে আপনি কিন্তু বাংলাদেশে ছিলেন। ম্যাপিং করছে ২০০২ সালে। সংঘের সার্টিফিকেট দিচ্ছে ২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে। মানে প্রমাণ করে দিচ্ছে আপনি বাংলাদেশে ছিলেন। রামকৃষ্ণ মিশনও সার্টিফিকেট দেয়, তাতে লেখা থাকে না আপনি কোন দেশের নাগরিক। সার্টিফিকেট দিয়ে এখন বিদেশে চলে গিয়েছে। কেন গেছে তাও জানি। এসবই হল বিজেপির কায়দা। যারা অন্যায় করে এভাবেই তাঁদের বিদেশে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু আপনারা ছাড়বেন না। তিনি সতর্ক করে বলেন, এআইকে হাতিয়ার করে কারচুপি করতে করতে পারে কমিশন। সতর্ক থাকতে হবে।।এসআইআর নিয়ে মমতার দাবি, এসআইআর আতঙ্কে ৩৫-৩৬ জনের মৃত্যু হল। ১০ জন বিএলও হাসপাতালে ভর্তি। তিনজন মারা গেছে। কৃষ্ণনগরে রিঙ্কু মৃত্যুর আগে চিঠি লিখে গিয়েছে। লিখেছে আমার মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী। তাহলে কার কথায় চলছে? ইন্টারনেট নেই। হোয়াটসঅ্যাপ নেই। রামের জায়গায় শ্যাম চলে যাচ্ছে। ড্রাফ্ট লিস্ট বেরলে বুঝতে পারবেন কী হয়। তিনি হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, আমাকে আঘাত করলে, সারা ভারতবর্ষ নাড়িয়ে দেব। বাংলা দখল করতে গিয়ে গুজরাত হারাবে, দেশ হারাবে। ২০২৯ বড় ভয়ংকর। ক্ষমতা হারাবে বিজেপি। দিল্লির জায়গা দখল করবে তৃণমূল। তখন কোথায় যাবেন, ঠিক করে রাখুন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*