নিজস্ব প্রতিবেদক : নদীয়া জেলায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন উদ্যোগ—প্রায় ১৪০০টি সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত বুথ। ‘পিঙ্ক বুথ’ ধারণার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নারী ক্ষমতায়নের বার্তা দিচ্ছে, পাশাপাশি ভোট প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্য নিয়েছে।
ভোট মানেই রাজনৈতিক উত্তাপ—তবে এবার সেই চেনা ছবির বাইরে গিয়ে এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে চলেছে নদীয়া। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হচ্ছে প্রায় ১৪০০টি মহিলা পরিচালিত বুথ, যা রাজ্যের মধ্যে সম্ভবত সর্বাধিক।
এই বুথগুলিতে ভোটগ্রহণের সম্পূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন শুধুমাত্র মহিলারা—একজন প্রিসাইডিং অফিসার এবং তিনজন পোলিং অফিসার। প্রশাসনের দাবি, এতে শুধু প্রশাসনিক দক্ষতাই নয়, মহিলাদের নেতৃত্বের ক্ষমতাও আরও দৃশ্যমান হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি বুথে সর্বাধিক ১২০০ জন ভোটার রাখা যাবে। ফলে জেলায় বুথের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫,১৩৬টি, যার মধ্যে ৪৫০টি অক্সিলিয়ারি বুথ। এই বৃদ্ধি ভোটারদের সুবিধা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ—দুটোকেই লক্ষ্য রেখে করা হয়েছে।
পিঙ্ক বুথগুলিকে আলাদা করে চেনাতে বিশেষ সজ্জা করা হচ্ছে। পাশাপাশি থাকছে—
বিশুদ্ধ পানীয় জল
বসার উপযুক্ত ব্যবস্থা
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ
আরামদায়ক ও স্বচ্ছন্দ ভোটদানের আবহ
প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করবে এবং মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াবে।
অতীতের তুলনায় বড় পদক্ষেপ
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেখানে মাত্র ১৫৪টি মহিলা বুথ ছিল, সেখানে এবারের এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। ২৬টি বিধানসভা জুড়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়ায় এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
নিরাপত্তা ও বাস্তবতা
যদিও উদ্যোগটি প্রশংসনীয়, তবুও নির্বাচন মানেই কিছু চ্যালেঞ্জ। গণ্ডগোল বা সন্ত্রাসের আশঙ্কা থেকেই যায়। ইতিমধ্যেই নদীয়ায় ১৪১১টি বুথ ‘সুপার সেনসেটিভ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে—
নিজেদের এলাকাতেই ডিউটি দেওয়া হচ্ছে
ভোট শেষে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে
বিধানসভা ভিত্তিক কিছু উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান
কৃষ্ণনগর উত্তর (১৫৫), কল্যাণী (১৫৯), রানাঘাট উত্তর পশ্চিম (১৩০), চাকদহ (১২১), নবদ্বীপ (১২০)—এই কেন্দ্রগুলিতে সবচেয়ে বেশি মহিলা বুথ গড়ে উঠছে। এছাড়াও জেলার প্রতিটি বিধানসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় এই বুথ তৈরি হচ্ছে।
“যে রাঁধে, সে ভোটও করায়”—নদীয়ার এই উদ্যোগ যেন সেই প্রবাদকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। নারীশক্তিকে সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনার এই প্রয়াস শুধু একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, এটি সামাজিক পরিবর্তনেরও বার্তা বহন করছে।
এখন নজর ভোটের দিনে—এই পিঙ্ক বুথগুলি কতটা সফলভাবে দায়িত্ব সামলায় এবং কতটা নতুন দিশা দেখায়, সেটাই দেখার।

Be the first to comment