দেশের গণতন্ত্র ক্ষয় করছে বিজেপি, কলম্বিয়ায় তোপ রাহুলের

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : বিদেশে গিয়ে দেশের গণতন্ত্র বিজেপি ক্ষয় করছে বলে তোপ দাগলেন কংগ্রেস শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। আজ কলম্বিয়ায় ইআইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সভায় তিনি এই কথা বলেন। তা সত্বেও ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, প্রযুক্তি শক্তি, ও স্বাস্থ্য পদ্ধতির জন্য তিনি এখনও আশাবাদী। তবে এই দেশ এখন গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে আছে বলে তিনি সতর্ক করেন। এর প্রধান কারণই হল গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। কেন তিনি এই কথা বলছেন, তার ব্যাখ্যা করে রাহুল গান্ধী বলেন, আসলে ভারতের বৈশিষ্ট্যই হোল সব ঐতিহ্য, ধর্ম, আদর্শের মানুষদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের এর জন্য জায়গা দেওয়া, এটিই প্রকৃত গণতন্ত্র। কিন্ত এখন এই সব গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর আক্রমণ আসছে, এর জন্যই তিনি ঝুঁকির কথা বলছেন।
বিদেশের মাটিতে এখানকার নানা সমস্যার কথা বলা, কেন্দ্রের শাসক দলের সমালোচনা আগেও করেছেন রাহুল গান্ধী। এর জন্য কেন্দ্রের শাসক দলের পাল্টা বিরূপ সমালোচনাও শুনেছেন। কিন্তু এই সব যে তাঁকে দমাতে পারেনি আজ ফের তার প্রমাণ মিলেছে।
প্রত্যাশিত ভাবে আজও তাঁর বক্তব্য নিয়ে তেড়েফুঁড়ে আসরে নেমেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি তাঁকে ” ভারত বিরোধী ” আখ্যা দিয়েছেন। রাহুলের পাশে তাঁর বোন প্রিয়াংকার পরিবারকে বিঁধে তিনি বলেন, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে পৃথিবীর চতুর্থ বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ হতে চলেছে ভারত, তখন হিংসা ও ঘৃণার জন্য রাহুল এখানকার গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে আক্রমণ করছেন!! গান্ধী – ভদ্র পরিবার দেশকে গত ৭০ বছরে গরিব করে রেখেছে, পিছিয়ে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাহুলকে তীব্র আক্রমণ করে প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, উনি ভারত বিরোধীদের নেতা হয়েছেন!!
বিজেপি নেতা গৌরব ভাটিয়া মন্তব্য করেন, বিদেশের মাটিতে রাহুল দেশের অবনমন করেছেন। অভিনেতা তথা সাংসদ কঙ্কনা রানাওয়াত বলেন, উনি সব সময় বিদেশে গিয়ে দেশকে ছোট করার চেষ্টা করেন। ভারতীয়রা মস্তিষ্কহীন এটা দেখাতে চান।
আজ কলম্বিয়ার এই অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী ২০১৬ সালের নোটবন্দিরও তীব্র সমালোচনা করে বলেন,যে উদ্দেশ্যে তা করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
প্রতিবেশি চিনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই দেশে জনতাকে দমন করে একনায়কতন্ত্র চলে, এখানে তাঁরা তা চান না। এখানে সবার কথা বলার অধিকারই কাম্য।
দেশে দুর্নীতি নিয়েও কেন্দ্রের শাসক দলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, এখন খোদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হৃদ্যতার সুবাদে ৩/৪ টি ব্যবসায়ীই সারা দেশের অর্থনীতি র নির্ণায়ক হয়ে উঠেছে। নাম না করে তিনি আদানি, আম্বানিকে নিশানা করেন বলে ওয়াকেবহাল মহল মনে করেন। বলেন, ভারতে সর্বত্র প্রচন্ড দুর্নীতি। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এর মাধ্যমে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব, কিন্ত বর্তমান শাসকের (বিজেপি) আমলে সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*