ভোরের অন্ধকারে শান্তিপুরে পড়ল অজানা যন্ত্র, আতঙ্ক ছড়াল এলাকায়, শেষে ‘গুগল’-এই মিলল রহস্যের সমাধান

Spread the love

রমিত সরকার, নদীয়া : 

ভোরের অন্ধকারে আকাশ থেকে নেমে আসা এক অজানা যন্ত্র ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল নদিয়ার শান্তিপুরে। বুধবার সকালবেলা শান্তিপুর পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানিকনগর এলাকায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় আলো জ্বলা এক যন্ত্র, যার পাশে প্যারাসুটের মতো একটি বস্তু ঝুলে ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও কৌতূহল।

এলাকাবাসীদের দাবি, সকালবেলা হঠাৎ রাস্তায় পড়ে থাকা ওই যন্ত্রটি নজরে আসে। যন্ত্রটিতে আলো জ্বলছিল এবং তার সঙ্গে প্যারাসুটের মতো কিছু যুক্ত থাকায় অনেকেরই মনে হয়, আকাশপথে প্যারাসুটের সাহায্যে এই যন্ত্র নামানো হয়েছে। কী এই যন্ত্র, কোথা থেকে এল, আদৌ বিপজ্জনক কি না—এই প্রশ্ন ঘিরেই বাড়তে থাকে উদ্বেগ।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শান্তিপুর থানার পুলিশ। পুলিশ ওই অজানা যন্ত্রটি উদ্ধার করে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি যন্ত্রটির প্রকৃতি জানার জন্য বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় পুলিশ ও স্থানীয়দের তরফে।

সাতসকালের এই ঘটনায় গোটা মানিকনগর এলাকায় তৈরি হয় ব্যাপক চাঞ্চল্য। তবে আতঙ্কের মধ্যেই আসে এক চমকপ্রদ মোড়। এলাকার কয়েকজন খুদে পড়ুয়া মোবাইল ফোনে গুগল লেন্স ও অনলাইন তথ্য ব্যবহার করে যন্ত্রটির ছবি ও গঠন খতিয়ে দেখে। তাদের অনুসন্ধানেই উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—এটি আসলে একটি আবহাওয়া মাপার যন্ত্র।

খুদেদের দাবি, এই ধরনের যন্ত্র আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও মনিটরিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। নির্দিষ্ট সময়ের পর ব্যবহার শেষ হয়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই তা পরিত্যক্ত অবস্থায় নেমে আসে। ফলে এতে কোনও বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক উপাদান থাকার সম্ভাবনা নেই বলেই তারা নিশ্চিত করে।

এলাকাবাসীর একাংশের মতে, মোবাইল ফোন নিয়ে শিশুদের ক্ষতির কথা প্রায়ই শোনা গেলেও, এই ঘটনায় প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করে তারাই আতঙ্ক কাটাতে বড় ভূমিকা নিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তও ইঙ্গিত দিচ্ছে, যন্ত্রটি থেকে আপাতত কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই।

তবে উদ্ধার হওয়া যন্ত্রটি কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এবং কোন সংস্থা এটি ব্যবহার করেছিল—তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আপাতত রহস্যের পর্দা অনেকটাই সরলেও, ভোরের আকাশ থেকে নেমে আসা এই যন্ত্র ঘিরে তৈরি হওয়া চাঞ্চল্য শান্তিপুরবাসীর মনে বেশ কিছুক্ষণ রেশ ফেলেই গেল।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*