রোজদিন ডেস্ক : সোনালি বিবি-সহ ছয় জনকে বাংলাদেশ থেকে এক মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিল কলকাতা উচ্চ আদালত। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে দুই বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও ঋতব্রত কুমার মিত্র র ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছেন। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকার শীর্ষ আদালতে যাবে বলে জানা যায়।
গত জুন মাসে দিল্লি পুলিশ রোহিণী থেকে বাংলাদেশী সন্দেহে বীরভূমের বাসিন্দা গর্ভবতী সোনালি বিবি, তাঁর পরিবার-সহ ছয় জনকে ধরে। কেন্দ্রীয় নির্দেশের কোন তোয়াক্কা না করে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়েও দেয়। কন্যার খোঁজ না পেয়ে উদবিগ্ন সোনালি বিবির পরিবার আদালতে যান। রাজ্য সরকারও তাঁদের পাশে দাঁড়ায়।
দরিদ্র এই পরিবারের আইনজীবির বক্তব্য শুনে আগেই উদবেগ ব্যক্ত করে ছিলেন দুই বিচারপতি। আজ তাঁরা পরিস্কার সোনালি বিবিদের ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এর আইনজীবি তা মানতে চান নি। বিভিন্ন তথ্য ও নথি পেশ করে তিনি দাবি করেন, সোনালি বিবিরা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করতে পারেননি। এবং এই মামলা উচ্চ আদালতের এক্তিয়ারের মধ্যেও পড়ে না। মামলা করতে হলে দিল্লি বা অসম আদালতে করতে হবে বলে তিনি জানান।
পক্ষান্তরে সোনালি বিবিদের আইনজীবি রঘু চক্রবর্তী জানান, দরিদ্র এই পরিহার শিক্ষিত না। তাঁরা লিখিত নথি নিয়ে তেমন কিছুই জানেন না। কেন্দ্রের আইনজীবি আদালতকে বিভ্রান্ত করছেন বলে তিনি সওয়াল করেন।
সোনালি বিবির বাবা ভদু শেখ এই মামলা করেছিলেন। আদালতের রায়ে খুশি তিনি।
রাজ্যের পক্ষে সাংসদ সামিরুল ইসলামও এই রায়কে স্বাগত জানান। তিনি সরকার এর পরিযায়ী শ্রমিক সংক্রান্ত বিষয়ের দায়িত্বে আছেন।
কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী পৃথক ভাবে আদালতের রায়কে সমর্থন জানিয়ে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের সমালোচনা করেন। বাংলা বললেই বাংলাদেশী তকমা দেওয়ার তীব্র নিন্দা করেন। এই সব নিয়ে রাজ্যের শাসক দলের সমালোচনা করে অধীর বাবু বলেন, এরা কুম্ভীরাশ্রু ফেলতে পটু।

Be the first to comment