রোজদিন ডেস্ক : স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিকেই হাতিয়ার করছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে আসন্ন বিধানসভা ভোটে নজরদারি ও নিরাপত্তা নিয়ে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল।কমিশনের দাবি, এবার শুধু বুথের ভিতর নয়, বুথের বাইরেও থাকবে নজরদারি। বুথের আশপাশে ভোটারদের বাধা দেওয়া বা ভয় দেখানোর মতো ঘটনাকেও বুথ ক্যাপচারিং হিসেবে ধরা হবে। একই সঙ্গে নজরদারি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে বুথের ভিতরে একটি করে সিসি ক্যামেরা থাকলেও এবার বুথের ভিতর ও বাইরে, দু’জায়গাতেই ক্যামেরা বসানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ নিশ্চিত করতে একাধিক ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য, রাজ্যের ১০০ শতাংশ বুথকে ওয়েবকাস্টিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা। নজরদারির জন্য তৈরি করা হয়েছে ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা। রিটার্নিং অফিসার স্তরে স্থানীয় কন্ট্রোলরুম, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে দ্বিতীয় স্তরের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে মূল কন্ট্রোলরুম থেকে গোটা প্রক্রিয়ায় নজরদারি চালানো হবে। সিইও দফতরে বসানো হয়েছে ৬৬০টি টিভি স্ক্রিন, যেখানে একসঙ্গে একাধিক বুথের লাইভ ছবি দেখা যাবে। এই নজরদারিতে থাকবেন ২৩৫২ জন মাইক্রো অবজার্ভার এবং ৯৬৫ জন সহকারী অবজার্ভার। ফ্লাইং স্কোয়াড ও কুইক রেসপন্স টিমের গাড়িতেও থাকছে ক্যামেরা ও জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা। ইভিএমের নিরাপত্তায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ লক্ষ ইভিএম ইউনিটের ফার্স্ট লেভেল চেকিং শেষ হয়েছে। ইভিএম ও ভিভিপ্যাট বহনকারী যানবাহনে জিপিএস ট্র্যাকিং থাকবে এবং গণনাকেন্দ্রের লাইভ ছবিও সরাসরি কন্ট্রোলরুমে পৌঁছবে। কমিশনের দাবি, প্রায় ২ লক্ষ সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে বদ্ধপরিকর কমিশন।

Be the first to comment