রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:– ছোটদের ডার্বিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কলকাতা লিগে এক দারুণ ম্যাচের সাক্ষী থাকলেন ফুটবলপ্রেমীরা। মরশুমের প্রথম ডার্বিতে জয় পেল ইস্টবেঙ্গল। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৩-২ গোলে জয় পেল লাল হলুদ ব্রিগেড। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল করলেন জেসিন টিকে, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেভিড লালহানসাঙ্গা। মোহনবাগানের হয়ে ডার্বি ম্যাচে গোল পেলেন কিয়ান নাসিরি ও লিওয়ান কাস্তানহা। তবে জয় পেল না সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
ডার্বির ইতিহাসে এতদিন ৪০১ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ১৩৭টায় জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের জয় ছিল ১৩৫টি ম্যাচে। শনিবার আরও একটা ডার্বি জিতে হেড-টু-হেড লড়াইয়ে এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল।
কল্যাণী স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখায় ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ৯ মিনিটেই লিড নেয় লাল-হলুদ ব্রিগেড। এডমুন্ড লালরিনডিকার ও সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেদের মধ্যে ওয়ান-টু খেলে আক্রমণে ওঠেন। সায়নের পাস থেকে গোল করতে ভুল করেননি জেসিন টিকে।
৩১ মিনিটে সমতা ফেরানোর সহজ সুযোগ পায় মোহনবাগান। সুহেল ভাটকে লক্ষ্য করে থ্রু বল বাড়ান সন্দীপ মালিক। অভিজ্ঞ গোলকিপার দেবজিৎ মজুমদার বাঁচিয়ে দেন সেটি। ফিরতি বলে শট নেন কিয়ান নাসিরি। তাঁর শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ব্যবধান বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে এডমুন্ড বল বাড়ান সায়নকে। অনেকটা দৌড়ে একক দক্ষতায় মোহনবাগানের গোলকিপার দীপ্রভাত ঘোষকে এড়িয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরে মোহনবাগান। ৫৫ মিনিটে এক গোল শোধ করে তারা। কর্নার থেকে বল পেয়ে তা নামিয়ে দেন বাগানের ডিফেন্ডার দীপেন্দু বিশ্বাস। সেই বল পেয়ে জোরালো শটে গোল করেন লিওয়ান কাস্তানহা।
১২ মিনিট পরেই ম্যাচে সমতা ফেরান কিয়ান নাসিরি। আরও একবার ডার্বি ম্যাচে জ্বলে উঠলেন মোহনবাগানের ঘরের ছেলে। অনেকটা লাফিয়ে একটি ক্রস থেকে গোল করেন তিনি।
তবে বাগান সমর্থকদের সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। ৬৯ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলকে ফের লিড এনে দেন ডেভিড লালহানসাঙ্গা। আমন সিকের ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে গোল করেন তিনি। জার্সি খুলে সেলিব্রেশন করতেও দেখা যায় তাঁকে।
ম্যাচে চোট পেয়ে বেরিয়ে যান ইস্টবেঙ্গলের জেসিন টিকে এবং মোহনবাগানের সালাউদ্দিন। দুই দলই পরিবর্তন করে। লিড নেওয়ার পরে সময় নষ্ট করতে দেখা যায় ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের। তবে সুযোগ নষ্টের প্রদর্শনীতে নামে মোহনবাগান। একাধিক সুযোগ মিস করেন সুহেল, কিয়ানরা। তাই প্রথমার্ধে যে দর্শনীয় ফুটবলের সাক্ষী ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা, সেটা হারিয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধে।

Be the first to comment