রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে শাহের চার্জশিট, ‘বিজেপির সবটাই মিথ্যে’, পালটা জবাব দিল তৃণমূল

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : শাহের চার্জশিট। সব শুনে মনে হচ্ছে, বিচারক আর দাগী আসামী একই চেয়ারে বসে আছেন— এই ভাষাতেই শাহের চার্জশিটকে পাল্টা দিলেন দমদমের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ব্রাত্য বসু। শনিবার কলকাতায় এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ দিয়েছেন। এরপর তৃণমূল ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহের তোলা অভিযোগের কড়া জবাব দিল তৃণমূল কংগ্রেস। শাহের তোলা অভিযোগ প্রসঙ্গে ব্রাত্য বসু তীব্র কটাক্ষ করেন। ব্রাত্য ছাড়াও এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদ। তিনজনেই চড়া সুরে শাহকে আক্রমণ করেন। কীর্তি বলেন, যেমন গুরু, তেমনই তো চেলা হবে। গত ১২ বছরে নরেন্দ্র মোদি একটা কথাও রেখেছেন? বছরে ২ কোটি করে চাকরি হলে তো ২৪ কোটি চাকরি হওয়ার কথা, কোথায় সে সব? কোথায় ১৫ লক্ষ টাকা? বলছেন রাজ্য সরকার জমি না দেওয়ায় একাধিক রেলপ্রকল্প করা যাচ্ছে না। এই তো ক’দিন আগেই উনি এসে অনেকগুলি রেলপথের উদ্নোধন করলেন। জমি না দিলে ওগুলো হল কীভাবে?, প্রশ্ন তোলেন কীর্তি। আরও বলেন, দিল্লিতে যে সরকারই থাকুক না কেন, পুলিশ কিন্তু অমিত শাহের হাতেই থাকে। তারপরও সেখানে কী করে গত ১২ বছরে ১৩,৩৬৬টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটল? জবাব দিন অমিত শাহ। আসলে প্রধানমন্ত্রী শুধু মিথ্যে কথাই বলতে পারেন। অমিত শাহও তাই করে যাচ্ছেন। তবে এসব করে লাভ হবে না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বাংলার মানুষের মনে গেঁথে গিয়েছে। সেই নাম সরানো যাবে না।

অমিত শাহের তোলা অভিযোগের এদিন জবাব দিয়েছে তৃণমূল। ব্রাত্য বলেন, আপনি অভিযোগ করছেন, জবাব চাইছেন? আমরা তো জবাব দিচ্ছি। কিন্তু গুজরাতের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হারিন পান্ডিয়া কার কাছে জবাব চাইবেন? বিচারপতি লোয়া কোথায় চাইবেন? মানসী সোনিই বা কাছে যাবেন? আদালত কাকে যেন তাড়িপাড় বলেছিল? নারী সুরক্ষা নিয়ে অমিত শাহের তোলা অভিযোগের জবাবে ব্রাত্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্ট তুলে বলেন, আপনাদের হিসেবই বলছে, দেশে নারীদের জন্য সবচেয়ে অসুরক্ষিত রাজ্য হল উত্তরপ্রদেশ। তারপর মহারাষ্ট্র ও রাজস্থান। তিনটিই বিজেপিশাসিত রাজ্য। ব্রাত্য আরও বলেন, আমাদের বকেয়া টাকা দিনের পর দিন আটকে রেখেছে। এখন অভিযোগ করছেন, রাজ্যের নাকি ডেমোগ্রাফি বদলে দেওয়া হচ্ছে। তাহলে কি এখানেও একটা গুজরাতের মত ঘটনা ঘটাতে হবে? তাহলেই ডেমোগ্রাফি ঠিক হয়ে যাবে, প্রশ্ন তোলেন ব্রাত্য। সীমান্ত রক্ষা আপনাদের কাজ, সেটা করছেন না। এত কথা বললেন, মণিপুর নিয়ে একটা কথা বললেন না কেন? ব্রিজভূষণ নিয়ে কোনও কথা নেই? কোথায় হাথরস, কোথায় উন্নাও? আপনি বাংলার আইন শৃঙ্খলা নিয়ে চিন্তিত, আর আমরা ভয়ে কাঁপছি কবে আবার লালকেল্লার সামনে গাড়ি বিস্ফোরণ হবে? কবে আবার সংসদ আক্রান্ত হবে?

সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, আপনারা বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশি বলেন, পুশব্যাক করেন। বাংলা বলায় সারা দেশে ২ হাজারেরও বেশি লোককে মারা হয়েছে। আপনারা বাংলা দখল করতে চাইছেন। শাহকে নিশানা করে সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, প্রতিটি বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাংলার নাগরিকদের মারা হয়েছে। তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। আদালত যাকে তাড়িপাড় বলেছে, সে দিচ্ছে অন্যকে চার্জশিট? এখানে নারী নির্যাতনকারী বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হয়। আর আপনাদের রাজ্যে কী হয়? মণিপুরে কী হচ্ছে গত তিন বছর? বলছেন না কেন? পহেলগাঁওয়ে ২৬ জনকে সন্ত্রাসবাদীরা মারল, কোথায় ছিলেন আপনারা? আপনারা বলেছিলেন ৩৭০ উঠে গেলে কাশ্মীর শান্ত হবে। কী হচ্ছে সেখানে? ব্রিজভূষণ নিয়ে বলছেন না কেন? বিহারে কোথায় অনুপ্রবেশকারী? এসআইআর হয়ে গেল, বাংলায় কোথায় এক কোটি বাংলাদেশি, কোথায় রোহিঙ্গা?

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*