প্রতিবেদন: তৃণমূল কংগ্রেসের তহবিল কোন গোষ্ঠীর অধিকারে থাকবে, তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল শিবির। সোমবার তাদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানির আর্জি জানান তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে। মামলার সঙ্গে যুক্ত অপর পক্ষকে নোটিস দিতে বলেছে আদালত। সেই সঙ্গে তৃণমূলের এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে পুলিশ এবং ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে। রাজ্য সরকারও মামলায় যুক্ত রয়েছে। তৃণমূলের দ্রুত শুনানির আর্জির প্রেক্ষিতে এদিন বিচারপতি ভট্টাচার্য জানান, সব পক্ষকে নোটিস দিতে হবে। তৃণমূলের আইনজীবী সোমবার দুপুর ২টোয় জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানির আবেদন জানিয়েছেন। তবে আদালত জানায়, সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার পর সোমবার অথবা মঙ্গলবার শুনানির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন দেখা দেয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিধায়ক পৃথক শিবির তৈরি করেছেন এবং নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছেন। এই শিবিরে তৃণমূলের চেয়ারম্যান হয়েছেন অরূপ রায়। দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন উল্লেখ করে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ওই অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ রাখতে বলেন তিনি। পরে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় ঋতব্রতের শিবির। পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করে। তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্টে জমা থাকা ৪৪০ কোটি টাকা আপাতত তোলা যাবে না বলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। এর পরেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূলের কালীঘাট শিবির।

Be the first to comment