রোজদিন ডেস্ক :
বন্দে মাতরম গানের পুরো গাইতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কংগ্রেস শীর্ষ নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেস কার্যালয়ে বন্দে মাতরম গাওয়ার সময় সোনিয়া গান্ধী পুরো গান গাইতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিজেপির সুধাংশু ত্রিপাঠি, অমিত মালব্য প্রমুখ এর বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিবাদে সরব হন।
আজ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কংগ্রেস নেত্রীকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, সারা দেশ কাল এই ছবি দেখেছেন! ওঁর এত রাগ কিসের! দশপ্রহরণধারিণী, বিদ্যাদায়িনী ইত্যাদি ওই গানে আছে বলে?
বন্দে মাতরমের প্রতি সোনিয়া গান্ধীর এই অবমাননা মূলক আচরণের প্রতিবাদে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবার ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁকে চিঠি দিয়েছেন। সারা দেশেই এর তীব্র প্রতিবাদ হচ্ছে। কংগ্রেসের কিছু মানুষ তাঁদের “মালকিন” কে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন বলে তীব্র কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সোনিয়া গান্ধীর ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
আজ নবান্নে এই বিষয় নিয়ে দৃশ্যত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারই না, রাজ্য তথা দেশের কোন মানুষ বন্দে মাতরমের এই অপমান, অবমাননা মেনে নেবেন না। দিল্লি সহ সর্বত্র এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ হচ্ছে। বন্দে মাতরমের অপমান হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বিষয়ে সংসদে বিল গৃহীত হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।
প্রসঙ্গত গতকাল পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সমাজ মাধ্যমে সোনিয়া গান্ধীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনায় মুখর হন।
তিনি জানান, কংগ্রেস কার্যালয়ে বন্দে মাতরম গান চলাকালীন তাঁকে গাইতে দেখা যায় নি, বরং তা থামানোর ইঙ্গিত আছে বলে দৃশ্যত মনে হয়েছে।। এর নেপথ্যে কি কারণ তা ওঁরা ই বলতে পারবেন। এই ঘটনায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে জানিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, যে দলের ঐতিহাসিক ভাবে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে এত গভীর সম্পর্ক, সেই দলের নেতৃত্বের জাতীয় চেতনার প্রতীকগুলির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতি কে কোন পথে নিয়ে যাবে বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
আজ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও গতকাল সোনিয়া গান্ধী বন্দে মাতরমের অবমাননা করেছেন বলে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন।

Be the first to comment