রোজদিন ডেস্ক :
সুদীর্ঘ উনিশ বছর আগের খুনের মানলায় গ্রেফতার হওয়া নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান-কে হলদিয়া আদালত আগানী ৩ অক্টোবর অবধি জেল হেফাজতের নির্দেশ দিলো। যা শুনে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কংগ্রেস সমর্থকরা। তাঁরা এর নেপথ্যে বিজেপি র প্রতিহিংসার রাজনীতি আছে বলে অভিযোগ করেন। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের উপ নির্বাচনের আগে এই ভাবে তাঁকে গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কংগ্রেস শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী, অধীর চৌধুরী, শুভঙ্কর সরকার সহ একাধিক বিরোধী দল ও।
আজ হলদিয়া আদালতে তাঁকে পেশ করার আগে দৃশ্যত ক্ষুব্ধ মিলন প্রধান বলেন, শাসক দল ভয় পেয়েছে। তিনি কোন ভাবেই মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করবেন না।
আদালত চত্বরে উপস্থিত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও দৃঢ় ভাবে বলেন, ওরা (বিজেপি) ভয় পেয়েছে, এই কথা রাহুল গান্ধী সব সময়ই বলেন।
ভয় না পেয়ে মিলন প্রধানকে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি নন্দীগ্রামবাসীকে আর্জি জানান।
মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে বলেন, এতদিন এখানকার বিধায়ক ছিলেন উনি, কি করেছেন!
“হাত ” (কংগ্রেসের প্রতীক) ই তাঁদের রক্ষা করবে, তিনি এই চিহ্নে তাঁদের ভোট দেওয়ার আর্জি জানান।
গতকাল রাতেই শুভঙ্কর সরকার, আশুতোষ চ্যাটার্জি প্রমুখ চন্ডীপুর চলে যান। কংগ্রেসের বহু সমর্থক ও আজ তাঁদের সঙ্গে আদালত চত্বরে ছিলেন। তাঁরা মিলন প্রধানের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে ধ্বনি দিয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখান।
আগামী সোমবার আরও একটি পৃথক মামলায় তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে।
মিলন প্রধানের আইনজীবী তথা কংগ্রেসের মুখপাত্র অজিতেশ পান্ডে জানান,তাঁরা ওঁর জামিনের আবেদন করেছিলেন। এত পুরানো গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মনোনয়নের ঠিক পরেই কেন ওঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই প্রশ্ন ও তোলেন তাঁরা। কিন্তু মহামান্য আদালত ওঁর ১৪ দিনের জেল হেফাজত দিলেন। তাঁরা এই নির্দেশ মেনে নেবেন।
এই গ্রেফতারি বেআইনি জানিয়ে আজিতেশ পান্ডে বলেন, এরপর যা করণীয় তাঁরা করবেন। এত দিন পর গ্রেফতার কেন, বিচারক তা সরকারি আইনজীবীর কাছে জানতেও চান। উনি বলেন, এতদিন মিলন প্রধান কে খুঁজে পাওয়া যায়নি, এখন পাওয়া গেছে, তাই গ্রেফতার করা হয়েছে।
আচমকা এত পুরানো মামলায় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করায় সারা দেশের রাজনৈতিক মহলই বিস্মিত। যদিও পুলিশের দাবি, তিনি এতদিন পলাতক ছিলেন। এর নেপথ্যে কোন রাজনৈতিক কারণ নেই।
মিলন প্রধানের গ্রেফতারের প্রতিবাদে আজ কলকাতায় বিভিন্ন স্থানে কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান।

Be the first to comment