প্রতিবেদন: চিন সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশ নাকি ভারতের অংশই নয়। শুধু তাই নয়, আকসাই চিনকে ভারতের অংশ হিসেবে না দেখিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যবর্তী আলাদা অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে নাগাল্যান্ডের সীমানাও মুছে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের তরফে প্রকাশিত এই ম্যাপ সামনে আসতেই যারপরনাই ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি। অথচ ভারতের সমর্থন নিয়েই রাষ্ট্রসংঘে পাশ হয়েছে ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাব। এরপরই দুনিয়ার নয়া মানচিত্র প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। এখন সেই মানচিত্র ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। এখন প্রশ্ন হল, ভারতের সমর্থন নিয়ে এই ম্যাপ পাশ হল কীভাবে? এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতের তরফে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, কোনও প্রস্তাবকে সমর্থনের অর্থ এটা নয় যে, আমরা নির্দিষ্ট মানচিত্রের সীমানাকে সমর্থন করছি। ভারতের সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী দেশের সার্বভৌম এলাকা দেখাতে হবে। জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, আকসাই চিন এবং অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এ নিয়ে কোনও আপোস করা হবে না। এমনিতেই অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও চিনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এই বিতর্কে নয়াদিল্লি বরাবর জানিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, আকসাই চিন ও অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এমনই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘের মানচিত্র নতুন বিতর্ক তৈরি করল। ওই মানচিত্রে অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চিনকে ভারতের অংশ হিসেবে না দেখিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যবর্তী আলাদা একটি অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে নাগাল্যান্ডের সীমানা মুছে দিয়ে রাজ্যটির দক্ষিণ সীমানা চাইনিজ লাইন এবং উত্তর সীমানা ইন্ডিয়ান লাইন হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই ভাবে আকসাই চিনের পূর্ব সীমানা ইন্ডিয়ান লাইন ও পশ্চিম সীমানা চাইনিজ লাইন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা লাইন অফ কন্ট্রোলকে ডটেড লাইন করে দেওয়া হয়েছে। মানচিত্রের নিচে কাশ্মীরের সেই ডটেড লাইনের ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও অরুণাচল ও আকসাই চিন নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া নেই রাষ্ট্রসংঘের ওই ম্যাপে।

Be the first to comment