বুধে ৫৪ বছর পর দেশ জুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির মহড়া! রাজ্যের ৩১টি জায়গায় হবে ‘মক ড্রিল’

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- দেশজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির মহড়া দেওয়া হবে আগামিকাল, মঙ্গলবার। পশ্চিমবঙ্গের ১৭টি জেলায় এই মহড়া বা ‘মক ড্রিল’ হবে। এই নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে রাজ্য সরকারের কাছে নির্দেশিকা চলেও এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, বুধবার দেশের ২৪৪টি জেলায় একই সময়ে হবে ‘মক ড্রিল’। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা-সহ ১৭টি জেলার ৩১টি জায়গায় হবে মক ড্রিল। এর জন্য এ, বি ও সি – তিনটি ক্যাটাগরি তৈরি করা হয়েছে।


নির্দেশিকা জারি হয়েছে ২৭টি রাজ্য এবং ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। বাংলায় মহড়া হবে কোচবিহার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, মালদহ, শিলিগুড়ি, বৃহত্তর কলকাতা, দুর্গাপুর, হলদিয়া, হাসিমারা, খড়্গপুর, বার্নপুর-আসানসোল, ফারাক্কা-খেজুরিয়াঘাট, চিত্তরঞ্জন, বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ার, রায়গঞ্জ, ইসলামপুর, দিনহাটা, মেঘলিগঞ্জ, মাথাভাঙা, কালিম্পং, জলঢাকা, কার্শিয়াং, কোলাঘাট, বর্ধমান,বীরভূম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি এবং মুর্শিদাবাদ। এইসঙ্গে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মহড়ায় অংশ নেবেন জেলাশাসক, জেলা প্রশাসনের আধিকারিক, নাগরিক সুরক্ষা কর্মী, হোমগার্ডরা। মহড়ায় অংশ নিতে বলা হয়েছে এনসিসি ক্যাডেট, নেহরু যুব কেন্দ্র সংগঠনের সদস্য এবং স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের।
যদিও, দেশের মধ্যে রাজস্থান, গুজরাত, জম্মু-কাশ্মীর প্রভৃতি রাজ্যে মক ড্রিলের উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এই রাজ্যগুলিতে ১০০টি জেলাকে স্পর্শকাতর হিসাবে চিহ্নিতও করা হয়েছে। ৫৪ বছর পর যুদ্ধ প্রস্তুতির দেশজুড়ে এমন মহড়া লক্ষ্য করা যাবে।
উল্লেখ্য, এক কথায় মক ড্রিল বা মহড়া হল অনুশীলন। সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, দমকল বিভাগ প্রভৃতি জরুরি বিভাগে প্রায় সময় এই মক ড্রিল হবে। অর্থাৎ, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে, আপৎকালীন পরিস্থিতে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, কীভাবে সামাল দিতে হবে, তারই চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি হবে। সাইরেন বাজলে সেই সময় কী করতে হবে, ব্ল্যাক আউট হলে কী করতে হবে, সেসবেরই অনুশীলন হবে। একেবারে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বা পরিবেশ তৈরি করেই হবে মক ড্রিল বা মহড়া।
প্রসঙ্গত, এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের বৈঠক হয়। সেখানে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেরা রাজ্য বাংলা। যুদ্ধ হলে যেকোনও সময় বড়সড় সংকট নেমে আসতে পারে রাজ্যের উপর। তাই রাজ্যকে কেন্দ্রের নির্দেশ, আগামিকাল, বুধবার থেকে সাতদিন নিজেদের সমস্ত ব্যবস্থাপনা গুছিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে যেখানে ত্রুটি রয়েছে, সেগুলি দ্রুত সংশোধন করতে হবে।
এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন রাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই যুদ্ধ ও নিজেদের ঘরোয়া পরিকাঠামোর প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনডিআরএফের ডিজি। রাজ্যের তরফে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, স্বরাষ্ট্র সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব রাজেশ সিনহা। ছিলেন ডিজি (সিভিল ডিফেন্স) জগমোহন। এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে, যদি কোনোভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে কীভাবে সামগ্রিকভাবে উদ্ধারকাজ বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে রাজ্যকে।
রাজ্যের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই মকড্রিলের সঙ্গে সরাসরি সাধারণ মানুষের কোনও যোগ নেই। বরং এর সঙ্গে অনেক বেশি জড়িত বিভিন্ন ব্যবস্থা যেমন অ্যাম্বুল্যান্স, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, উদ্ধার কাজ, হাসপাতালের বেড ইত্যাদি। সবকিছু কতটা সচল আছে। সবটাই ঝালিয়ে নেওয়ার জন্যই এই ব্যবস্থা।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে রাজ্যে বিভিন্ন প্রান্তে জেলা ধরে ধরে একাধিক সাইরেন রয়েছে। শুধু শহর কলকাতায় সাইরেন রয়েছে ৯২টি। তবে এর বড় অংশ দীর্ঘদিন অব্যবহারের ফলে অকেজো হয়েছিল। সেগুলিকে দ্রুত সারিয়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার জেলা ধরে বিচার করলে প্রত্যেক জেলায় ২০-২৫টি সাইরেন রয়েছে। তার মধ্যে প্রত্যেক জেলার হেড কোয়ার্টারে একটি সাইরেন থাকছে। ওই আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে ৬২টি স্যাটালাইট ফোন রয়েছে। রাজ্যের সঙ্গে সিভিল ডিফেন্সের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হবে এয়ারফোর্স। এয়ারফোর্সের মাধ্যমেই খবর আসবে সিভিল ডিফেন্সের কাছে। এরপর সিভিল ডিফেন্স থেকে অন্যান্য সর্বত্র সেই খবর বা সাবধানবাণী পৌঁছে দেওয়া হবে। সেই মতো পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে দ্রুত প্রত্যেক জেলা ধরে ধরে কন্ট্রোল রুম তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। যেগুলি সকাল থেকে রাত সারাক্ষণ চলবে। যেহেতু বর্ষার কথা মাথায় রেখে মে মাস থেকেই রাজ্যে এই ধরনের কন্ট্রোলরুম চালু হয়ে যায়। আপাতত সেগুলিকেই যুদ্ধ হলে উদ্ধার কাজ ও বিপর্যয় মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে।
নবান্ন সূত্রে খবর, আপাতত রাজ্যের হাতে রয়েছে সাত দিন। সেখানে পরিকাঠামোগত খামতি থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সমস্তই জোগাড় করতে হবে রাজ্যকে। সেটাই আদতে হবে মকড্রিল। যুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষকে রক্ষার পদ্ধতি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*