রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- ফেল লালঝড়! জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়ের ধারা বজায় রাখল বামেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় প্যানেলের ৪টি পদের মধ্যেই ৩টির দখলে নিল বাম সংগঠন৷ অন্যদিকে, দীর্ঘ ৯ বছরের খরা কাটিয়ে জয়ের মুখ দেখল আরএসএস ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। সেই সঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন দলের প্রার্থী বৈভব মীনা।
ছাত্র সংসদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তুলকালাম বেধে যায় বাম ও রাম ছাত্র সংগঠনের সমর্থকদের মধ্যে। নির্বাচনী কার্যালয়ে রীতিমতো হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। গত ২৫ এপ্রিল জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয় সোমবার। ছাত্র সংগঠনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৭০২টি ভোট পেয়ে সভাপতি পদে জিতেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (AISA) নীতিশ কুমার। সহ সভাপতি পদে ১বহাজার ১৫০ টি ভোট পেয়ে জিতেছেন ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্ট ফেডারেশনের (DSF) মনীষা এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১ হাজার ৫২০টি ভোটে জিতেছেন DSF-এর মুনতেহা ফাতিমা।
দীর্ঘদিন ধরে বামেদের দখলেই রয়েছে জেএনইউ-র ছাত্র সংসদ। তবে, এবার নজর কেড়েছে আরএসএস অনুমোদিত অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি। প্রায় এক দশক ধরে জেএনইউ-র কোনও ক্ষমতায় ছিল না গেরুয়া দলটি। ২০০০ সালে শেষবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি পদটি জিতেছিল তারা। সভাপতি হয়েছিলেন সন্দীপ মহাপাত্র। এমনকী, ২০১৫-১৬ সালের নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় প্যানেল থেকে মুছে গিয়েছিল এবিভিপি-এর নাম। সেবার যুগ্ম সম্পাদক পদে জিতেছিলেন সৌরভ শর্মা। তারপর আর ক্ষমতায় ফেরা হয়নি তাদের। এবার সমস্ত খরা কাটিয়ে যুগ্ম সম্পাদক পদে ১ হাজার ৫১৮টি ভোট পেয়ে জিতেছেন বৈভব মীনা। এই জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত গেরুয়া শিবির।
উল্লেখ্য, এই বছর নির্বাচনের আগে বাম শরিকি দলগুলির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়। বামজোট থেকে বেরিয়ে একজোটে লড়াই করে এআইএসএ এবং ডিএসএফ। অন্যদিকে, এআইএসএফ ও বিরসা আম্বেদকর ফুলে স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (BAPSA) এবং পিএসএ (PSA)-এর সঙ্গে একজোট বেধে নির্বাচনী ময়দানে নামে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই। অবশ্য, স্বতন্ত্রভাবে লড়েছে এবিভিপি।

Be the first to comment