কিভাবে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতের প্রত্যাঘাত! সাংবাদিক বৈঠকে ব্যাখ্যা দিলেন দুই মহিলা সেনাকর্তা, ছিলেন বিদেশসচিবও

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- কিভাবে মঙ্গলবার রাতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারত প্রত্যাঘাত হেনেছে, সাংবাদিক বৈঠকে তার ব্যাখ্যা দিলেন দুই মহিলা সেনাকর্তা। সেখানে ছিলেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। বেছে বেছে জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতেই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুই মহিলা সেনাকর্তা। একই সঙ্গে বলা হয়েছে পাকিস্তানের কোনও সেনাঘাঁটি বা সাধারণ নাগরিককে টার্গেট করা হয়নি।
একের পর এক জঙ্গি হামলায় বারবার ভারতে প্রাণ গিয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে সেনা জওয়ানদের। আর পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা ছিল ভয়ঙ্করতম। এত বেশি সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু কোনও হামলায় ঘটেনি। এই তথ্য তুলে ধরে ভারত এবার স্পষ্ট বার্তা দিল ‘আর নয়’। মঙ্গলবার রাতে ভারত সামরিক অভিযান চালানোর পর বুধবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি।
দুনিয়ার জঙ্গিদের আশ্রয় স্থল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান বললেন, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। তিনি আরও বলন, পহেলগাম হামলার পর আরও জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছিল পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরা। তাই আতঙ্কবাদকে রুখতে ভারতের প্রত্যাঘাত প্রয়োজনীয় ছিল। পাশাপাশি, ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে ব্রিফিং দিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ভামিকা সিং।
ভারতীয় সেনার মধ্যরাতের অপারেশন সিন্দুর-এ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জঙ্গিদের ৯টি ঘাঁটি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বুধবার সকাল ১০টায় সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কমান্ডার ভামিকা সিং। পাক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ভিডিয়ো দেখানো হয় এই সাংবাদিক সম্মেলনে। মুম্বই হামলার পর সব চেয়ে বড় জঙ্গি হামলা পহেলগামে হয়েছে, জানান বিদেশ সচিব। দুই মহিলা সেনাকর্তা তুলে ধরেন এই অপারেশনের সাফল্য।
বিদেশ সচিব বিক্রিম মিস্রি জানান, জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়ন থমকে দেওয়াই এই হামলার লক্ষ্য ছিল। পহেলগাম হামলায় পাক জঙ্গি গোষ্ঠী TRF-এর যোগ প্রমাণিত বলেও জানান তিনি। জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা হিসাবে পাকিস্তান গোটা বিশ্বে পরিচিত বলেও জানান বিদেশ সচিব। বিদেশ সচিবের কথায়, ‘পহেলগামে হামলার পর গোটা দেশে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছিল। ১৫ দিন ধরে পাকিস্তান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি। তাই মঙ্গলবার ভোর রাতে পাক জঙ্গিঘাঁটিতে নিয়ন্ত্রিত হামলা হয়েছে।’ জঙ্গিদের যথাযথ জবাব দিতে ভারত নিজের শক্তি প্রয়োগ করেছে বলে জানান তিনি।
কর্নেল সোফিয়া কুরেশি দাবি করেন, রাত ১টা ৫ মিনিট থেকে দেড়টার মধ্যে অপারেশন সিন্দুর চলে। পহেলগামে নিরপরাধ মানুষকে ন্যায়বিচার দিতেই এই অপারেশন। ৯ জঙ্গি ঘাঁটি ধূলিসাৎ করা হয়েছে। তিন দশক ধরে যথেষ্ট নজরদারির মধ্যেই পাকিস্তানে জঙ্গি-পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে। পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গিঘাঁটি, জঙ্গি প্রশিক্ষণের জায়গা, হ্যান্ডলারদের লঞ্চ প্যাড রয়েছে।
সোফিয়া, ভামিকা জানান, বিশ্বস্ত ইন্টেলিজেন্স খবরের নিরিখেই এই অভিযান চলেছে। একজনও নির্দোষ, সাধারণ মানুষের যাতে ক্ষতি না হয়, সে দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। ওড়ানো হয়েছে সবাইনালায় লস্কর-ই-তৈবার ট্রেনিং সেন্টার। সোনমার্গ, গুলমার্গ, পহেলগামে হামলার চক্রীরা এখান থেকে প্রশিক্ষণ নেয়। ধূলিসাৎ করা হয়েছে সইদ-না-বিলাল ক্যাম্প। জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটি। বিস্ফোরক রাখা, প্রশিক্ষণের জায়গা ছিল এই ক্যাম্প। কোটলির গুলপুর ক্যাম্প লস্কর-ই-তৈবার বেস ছিল এটি। এখান থেকেই পুঞ্চে এবং তীর্থযাত্রীদের বাসে হামলাকারী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। ভিমবেরের বরনালা ক্যাম্প, কোটলির আব্বাস ক্যাম্পও ছিল জঙ্গিদের শক্ত ঘাঁটি। হিজবুল মুজাহিদিনের অস্ত্রাগার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরিদকে আজমল কাসভ, ডেভিল হেডলির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও দুরমুশ করেছে ভারতীয় সেনা। বহাওয়ালপুরে জৈশ-ই-মহম্মদের হেড কোয়ার্টারও ধ্বংসস্তূপের পরিণত হয়েছে। এখান থেকেই জঙ্গিদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ সবই চলত। কর্নেল সোফিয়া জানান, একটি পাক সেনা ঘাঁটিকেও নিশানা করা হয়নি। একজন নাগরিকেরও ক্ষতি হয়নি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*