রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- চাকরি হারানো শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে এবার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ সফরের আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি একদিকে যেমন চাকরিহারাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, তেমনই আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্দোলনের একটা লক্ষ্মণরেখা আছে এবং আইনি পথেই সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত। এই লড়াইয়ে রাজ্য সরকার আন্দোলনকারীদের পাশে থাকবে এবং সাহায্য করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “চাকরিহারাদের প্রতি আমার সহানুভূতি আছে। এটা ঠিক, তাঁদের কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আদালতের নির্দেশ আমাদের মানতে হবে। আইন মেনেই চলতে হবে।” তিনি জানান, রাজ্য সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে এবং নিজেদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, চাকরি হারানোর জন্য রাজ্য সরকার দায়ী নয়। তাঁর অভিযোগ, “যারা চাকরি কেড়ে নিয়েছে, তারাই এখন উস্কানি দিচ্ছে। আমাদের কারণে চাকরি যায়নি।” শিক্ষকদের কাছ থেকে ন্যূনতম সৌজন্য এবং মর্যাদা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, “তাঁদের সমাজের জন্য কাজ করা উচিত।”
আন্দোলনকারীদের ধরন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা আন্দোলন করছেন বা যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের প্রতি আমার কোনও সমস্যা নেই। আমার একমাত্র ক্ষোভ হল, অন্যদের যেন জোর করে বাধা দেওয়া না-হয় বা রাস্তা আটকে মানুষকে হেনস্থা করা না হয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভে শিক্ষকদের থেকে বাইরের লোক বেশি রয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একজন অন্তঃসত্ত্বা মাকে পর্যন্ত বাড়িতে যেতে দেওয়া হয়নি এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে। একজন মহিলাকে বের হতে না-দেওয়ায় তিনি পাঁচিল টপকে লাফিয়ে নামতে বাধ্য হন এবং গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এই ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “আমি আন্দোলনের বিরুদ্ধে নই, তবে আন্দোলনেরও একটা লক্ষ্মণরেখা আছে।” তাঁর পরামর্শ, “আপনারা এখানে এভাবে আন্দোলন না-করে আইনি পথে লড়াই করুন। আমরা আপনাদের পুরোপুরি সাহায্য করব।” তিনি আরও বলেন, “আমরা নিজেরাও নিজেদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। আমরা তো ওদের বিপক্ষে নই।”
এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও কোনও রাজনৈতিক দল এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে জলঘোলা করার চেষ্টা করছে। সেই রাজনৈতিক দলগুলি উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, “কোর্টে গিয়ে আপনারাই তো কেসটা করেছিলেন, সেটা কি করা ঠিক হয়েছিল!” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জোর করে কাউকে আটকে রাখা যায় না।”
উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে বহু শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ার পর থেকেই চাকরিচ্যুতরা কলকাতার রাজপথে এবং অন্যান্য জায়গায় লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আজই উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গে বণিক মহলের সঙ্গে বৈঠক, পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন প্রোগ্রাম এবং প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। উত্তরবঙ্গ সফরের ঠিক আগে এই মন্তব্যগুলি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সবমিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরিহারাদের প্রতি মানবিক হলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, আন্দোলনকে অবশ্যই আইনের সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং আইনি পথেই সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত। রাজ্য সরকার এই প্রক্রিয়ায় আন্দোলনকারীদের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

Be the first to comment