কেষ্টর বচনে ক্ষুব্ধ মমতা ও অভিষেক, আপাতত থানায় হাজিরা এড়ালেন অনুব্রত

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কেষ্টর দেখা মিলল না। বেলা ১১টার মধ্যে বোলপুরে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও)-এর অফিসে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল অনুব্রত মণ্ডলের। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি সেখানে যাননি। তার বদলে পাঠান তাঁর পাঁচ আইনজীবীকে। আইনজীবীদের অনুব্রতের অনুপস্থিতির কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে, তাঁদের এক জন প্রশ্ন এড়িয়ে জানান, পুলিশের সঙ্গে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ করতে এসডিপিও অফিসে এসেছিলেন তাঁরা। কেষ্টর আইনজীবীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুব্রত অসুস্থতার কারণে হাজির হতে পারেননি।
ভাইরাল একটা অডিও ক্লিপ। বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদার এবং তাঁর মা-স্ত্রীর নামে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ। পাশাপাশি চুলের মুঠি ধরে পেটানোর হুমকি! বিতর্কে নাম জড়াল বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর। ওই অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি কানে যায় তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সূত্রের খবর, এরপরই দলের মধ্যে প্রচণ্ড অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তারপরই দলের তরফে শুক্রবার চার ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে কেষ্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় শোকজ এবং কড়া ব্যবস্থা— তাও দলের তরফে সমাজমাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই বিকেল সোয়া তিনটে নাগাদ দুঃখ প্রকাশ করে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে নেন কেষ্ট। লিখিত ক্ষমা চান দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছেও।
অন্যদিকে, কর্মরত সরকারি কর্মচারীকে ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৫, ১৩২, ২২৪ ও ৩৫১ ধারায় কেষ্ট মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা শুরু করেছে। এর মধ্যে দু’টি জামিন অযোগ্য ধারাও রয়েছে। আজ, শনিবার বেলা ১১টায় বোলপুর থানায় তলব করা হয়েছে বীরভূম জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতিকে। কমিয়ে দেওয়া হয়েছে দেহরক্ষীও। কিন্তু, সকাল ঘড়ির কাঁটা সকাল ১১টা পেরিয়ে গেলেও থানায় হাজিরা দেয় নি কেষ্ট। তার বদলে পাঠান তাঁর পাঁচ আইনজীবীকে। তবে কি শনিবার পুলিশি হাজিরার মুখোমুখি হবেন না কেষ্ট মণ্ডল? নাকি দেরি করে যাবেন? এ ব্যাপারে এখনও অনুব্রতর কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
তৃণমূল সূত্রে খবর, এই ঘটনায় তৃণমূল সুপ্রিমোর পাশাপাশি বেজায় ক্ষুদ্ধ হয়েছেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিদেশ থেকেই গতকাল রাতেই দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে ফোন করেন অভিষেক। অনুব্রতকে নিয়ে বেশ কিছুক্ষন কথা হয় তাদের দুজনের মধ্যে।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের মুখোশ খুলতে ভারতের সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় রয়েছেন অভিষেক। অনুব্রত দলবিরোধী কার্যকলাপ জাকার্তায় বসেই জানতে পারেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। এরপরই, দলের রাজ্য সভাপতিকে ফোন করে কেষ্টর বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশও দেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে সোশ্যাল মাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। তাতে শোনা যায় বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করছেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই গালমন্দের বহর এমনই যে কান পাতা দায়। শুধু সেই পুলিশ অফিসার নয়, ফোনে গালমন্দ করার সময়ে তাঁর স্ত্রী ও মা সম্পর্কে নোংরা কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। যা শুনে পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দর আন্দোলিত হয়ে যায়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*