রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী থেকে মিঠুন চক্রবর্তী সহজ ছিলনা এই পথ। বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সফলতা পাওয়া খ্যাতিমান চলচ্চিত্র অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিন আজ। ৭৫ বছরে পা দিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। ছবির আলোচনায় বলা যায় ‘মিঠুন’দার’ সিনেমা মানেই ভরপুর বিনোদন। সংলাপের আগুনে ভিলেনকে যেন পুড়িয়ে মারেন তিনি। তার নাচ সমগ্র ভারতীয় সিনেমাতেই আইকন হয়ে আছে। বিশেষ করে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ তো কিংবদন্তি। ফিল্ম ফেয়ার, অপ্সরা পুরস্কার, ছাড়াও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩টি জাতীয় পুরস্কার, পদ্মভূষণ ও দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কারও।
১৬ জুন, ১৯৫০ সালে বাংলাদেশের বরিশালে এক ব্রাহ্মন পরিবারে জন্মগ্রহন করেন তিনি। তাঁর পিতা ছিলেন, বসন্তকুমার চক্রবর্তী ও মাতা শান্তিরানী চক্রবর্তী। তিনি অরিয়েন্টাল সেমিনারীতে তাঁর স্কুলজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে লেখাপড়া করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক হন। স্নাতকোত্তর জীবনে তিনি অভিনয় জগতে প্রবেশের জন্য পুনেতে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউটে যোগ দেন ও সেখান থেকে স্নাতক হন। এরপর তিনি নকশাল আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।
১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আর্ট হাউজ ড্রামা ‘মৃগয়া’র মধ্য দিয়ে অভিনয় জগতে পা রেখেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। এই সিনেমায় অসাধারন অভিনয় প্রতিভার জন্য তিনি ন্যশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেতার সম্মান পান। এরপর তিনি দো আনজানে ও ফুল খিলে হ্যায় গুলশান গুলশান এ কিছু ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে ১৯৭৮ সালে মেরা রক্ষক সিনেমায় অভিনয় করে, মিঠুন জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহন করেন। এরপর একে একে মুঝে ইন্সাফ চাহিয়ে, ঘর এক মন্দির, প্যার ঝুঠা নেহি, স্বর্গ সে সুন্দর এবং প্যায়ার কা মন্দির সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকমনে পাকাপাকি জায়গা করে নেন। তিনি প্রায় ৪০০’র বেশি ফিল্মে অভিনয় করেছেন।
এরপর ১৯৮২ সালে ডিস্কো ড্যন্সার সিনেমায় অভিনয় করে তিনি পুনরায় প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি শুধু বলিউড নয় বাংলা, ওড়িয়া, তামিল, ভোজপুরি, পাঞ্জাবি, কন্নর প্রভৃতি বিভিন্ন ভাষায় সিনেমা করেছেন। বাংলায় তাঁর প্রথম ছবি ত্রয়ী। তিনি একাধিকবার সেরা অভিনেতা ও সেরাসহ অভিনেতার জন্য জাতীয় পুরষ্কারে সম্মানিত হয়েছেন। ২০০৭ সালে তাকে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত করা হয়। তবে শুধু রুপলি পর্দায় নয় দূরদর্শনের পর্দাতেও তিনি সমানভাবে সাবলীল। তিনি বেশ কিছু রিয়ালিটি শো এর সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন।
মিঠুন চক্রবর্তীর ব্যবসায়ীক সাফল্য ছবি হল- ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ডিস্কো ড্যান্সার’। এতে জিমি চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকমহলে বেশ সাড়া ফেলেন তিনি। ‘ডিস্কো ড্যান্সার’-এর পাশাপাশি তিনি উপহার দিয়েছেন- ‘সুরক্ষা’, ‘সাহস’, ‘ওয়ান্টেড’, ‘বক্সার’, ‘পেয়ার ঝুকতা নেহি’, ‘পেয়ারি বেহনা’, ‘অভিনাশ’, ড্যান্স ড্যান্স’, ‘প্রেম প্রতিজ্ঞা’, ‘মুজরিম’ ও ‘অগ্নিপথ’-এর মতো অসংখ্য ব্লকবাস্টার ছবি।
সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে ১৯৯১ সালে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জেতেন মিঠুন চক্রবর্তী। এছাড়া ‘তাহাদের কথা’ (১৯৯২) ও ‘স্বামী বিবেকানন্দ’তে (১৯৯৮) কাজ করার সুবাদে দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। মিঠুন চক্রবর্তী হিন্দির পাশাপাশি বাংলা, উড়িয়া, ভোজপুরি, তামিল, তেলেগু, কান্নাড়া এবং পাঞ্জাবী ভাষার ছবিতেও কাজ করেছেন। তিনি শুধু অভিনেতা নয়, গায়ক, প্রযোজক, লেখক, সোশ্যাল ওয়ার্কার, উদ্যোক্তা, টেলিভিশন উপস্থাপক বহু পরিচয়ে পরিচিত তিনি। ছিলেন রাজ্য সভার সদস্যও।
একটি দারুণ রেকর্ড রয়েছে মিঠুন চক্রবর্তীর।
‘আমি জলঢোঁড়াও নই, বেলেবোড়াও নই। আমি জাত গোখরো। এক ছোবলে ছবি। মারব এখানে, লাশ পড়বে শ্মশানে।’ মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত সুপারহিট সিনেমার ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ মুক্তি পায় ২০০৬ সালে। এই সিনেমার বেশকিছু সংলাপ এতবছর পরও বেশ জনপ্রিয়। ১৯৮৯ সালে প্রধান অভিনেতা হিসেবে তার ১৯টি ছবি মুক্তি পায়। এই রেকর্ড আজ পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি।
ভালো থাকুন মিঠুন চক্রবর্তী। রোজদিনের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

Be the first to comment