রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- গত ১২ জুন, এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হলেও, অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় একটি ছোট্ট প্রাণ ধ্যানশ, মাত্র আট মাসের এক শিশু। আর তার জীবন বাঁচানোর নেপথ্যে আছে এক মায়ের লড়াই, যিনি শুধু শরীর দিয়ে সন্তানকে আগুন থেকে বাঁচাননি, দিয়েছিলেন নিজের চামড়াও।শিশুটির শরীর ৩৬ শতাংশ এবং মায়ের শরীর ২৫ শতাংশ ঝলসে গিয়েছিল।
ঘটনার দিনের কথা মনে করে মনীষা বলেন ‘এক মুহূর্তেই চারপাশ অন্ধকার, তারপরে ঘরে আগুন আর তীব্র তাপ।’ সেই ভয়াবহ মুহূর্তে ছেলেকে তুলে নেন কোলে। আগুনের মধ্যে দিয়ে ছুটে বেরোনোর চেষ্টাও করেন। কিন্তু গাঢ় ধোঁয়া আর লেলিহান শিখা ভেদ করে কোনও কিছুই দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল না। কোনওরকমে বেঁচে বেরিয়ে আসতে পারলেও দু’জনের শরীরই পুড়ে যায়।
চিকিৎসকরা যখন ছোট শিশুর ক্ষত সারানো নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, তখনই মণীষা নিজের ত্বক দান করার সিদ্ধান্ত নেন।ডাঃ পারিখের নেতৃত্বে প্লাস্টিক সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যেখানে মায়ের শরীর থেকে ত্বক নিয়ে শিশুর দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মা ও ছেলে এখন সুস্থ এবং সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো মায়ের ভালোবাসার অসীম শক্তি। বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ধ্যানশই সবচেয়ে কম বয়সী, যার এমন অলৌকিকভাবে জীবন রক্ষা পেল।

Be the first to comment