ট্রাইবুনালে কারচুপি, রায় পক্ষপাতদুষ্ট : শেখ হাসিনা

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক :
তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে, তা পক্ষপাতদুষ্ট, ট্রাইবুনালে কারচুপি হয়েছে বলে জানালেন শেখ হাসিনা। গত বছর ৫ আগস্ট থেকে নতুন দিল্লির গোপন আস্তানায় আছেন তিনি।
আজ তাঁকে নিয়ে এই রায়ে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ, রুষ্ট তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন, অসত্য বলে পরিস্কার জানিয়ে দেন।
তাঁর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশে যে মামলা, শুনানি ইত্যাদি হয়েছে তা সম্পুর্ন অস্বীকার করে তিনি বলেন, তাঁর আইনজীবীও ওখানে ছিলেন না। এই ট্রাইবুনাল আন্তর্জাতিক তো নয়ই, তা নিরপেক্ষও নয়। তাঁর বিরুদ্ধে গত বছর আনা কোন অভিযোগই ঠিক নয় বলে জানিয়ে দেন। ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা আরও বলেন, পৃথিবীর কোন মর্যাদাসম্পন্ন, পেশাদারি আইনজ্ঞই বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালকে মানবেন না। ওই দেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস অসাংবিধানিক ভাবে উগ্রবাদীদের সমর্থনে এই পদে আছেন।এই আমলে পড়ুয়া, চিকিৎসক, বস্ত্র কর্মী, শিক্ষক প্রমুখের আন্দোলনকে নিষ্ঠুর ভাবে দমন করা বলে তাঁর অভিযোগ। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আমলে সাংবাদিকদের হেনস্থা, অত্যাচার করা হয়, আন্দোলনে গুলি করে মারা হয়। আওয়ামী লিগের কর্মী, সমর্থকদের বহু বাড়ি, সম্পত্তি, ব্যবসাও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানান।
গত বছরের জুলাই আন্দোলন তাঁদের দেশের এক মর্মান্তিক ঘটনা মন্তব্য করে এই বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খারিজ করেন তিনি।

ওই হিংসাত্মক ঘটনা য় তাঁর বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি। যে দেড় হাজার জন কে গুলি করে মারার কথা বলা হয়েছে তার সত্যতা কে চ্যালেঞ্জ জানান শেখ হাসিনা। বলেন,যে কোন নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক কেন্দ্র র মুখোমুখি হতে তিনি রাজি, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ঠিক ভাবে প্রমাণ করা যাবে।
অন্যদিকে আজ বাংলাদেশের এই ট্রাইবুনাল আর ও জানিয়ে দিয়েছে, আত্মসমর্পণ না করলে হাসিনা ও কামালের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করার কোন সুযোগ নেই। তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র দফতর আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামাল কে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছে।
বলা হয়েছে, দন্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোন দেশ আশ্রয় দিলে তা ন্যায় বিচারকে অবজ্ঞা করা ও অবন্ধু সুলভ আচরণ হবে। বিজ্ঞপ্তিতে ভারতকে তাঁদের প্রত্যর্পণ করতেও বলা হয়।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পক্ষে আজ এক বিবৃতিতে এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে জানানো হয়েছে। সরকার এই রায়ের প্রেক্ষিতে সব স্তরের জনসাধারণকে শান্ত, সংহত, দায়িত্বশীল হওয়ারও আহবান জানায়। যে কোন হিংসাত্মক কর্মকান্ড থেকে বিরত হতেও অনুরোধ করা হয়। যে কোনরকম অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউনুসের সরকার।
বাংলাদেশের আইনি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য তাঁরা ভারত সরকারকে চিঠি দেবেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*