রোজদিন ডেস্ক :
তাঁর মৃত্যুর পর সন্তানরা পারলৌকিক কাজ করবেন কিনা সংশয় ছিল প্রাক্তন সেনাকর্মী শান্তি দাসের। তবে মনকে শান্ত করতে তিনি এই কাজ করেছেন বলে দাবি করেন।
পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের দাসপাড়ার বাসিন্দা প্রাক্তন সেনা কর্মী শান্তি দাসের (৭৮) স্ত্রী আগেই প্রয়াত হয়েছেন। এক পুত্র ও এক কন্যা থাকা সত্বেও কেন তিনি এই কাজ করলেন, তা নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে। ছিল কৌতুহলও। তাই শান্তি দাসের শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে প্রায় হাজার মানুষ তাঁর বাড়ি যান।দুই সন্তান এই নিয়ে মুখ খোলেননি, কার্যত নীরব দর্শক হয়েই বাবার এই জীবিত অবস্থায় শ্রাদ্ধর কাজে ছিলেন তাঁরা। স্থানীয় সূত্রের খবর, শান্তিবাবু সন্তানদের ওপর কোন ভার চাপাতে চান না বলে জানান। বলেন, মৃত্যুর পর কে কি করবে ভেবে লাভ নেই, বেঁচে থাকতেই যা করার করে নেওয়াই ভাল। অনেকদিন ধরেই তিনি এই কথা ভাবছিলেন। শেষে নিজের শ্রাদ্ধ নিজে করার উদ্যোগ নেন। এর জন্য সব রকম অনুষ্ঠান, কীর্তন, পড়শিদের আমন্ত্রণ ও খাওয়ানো ইত্যাদি সব কাজ সুষ্ঠু ভাবে করার ব্যবস্থা করেন। এমন কি তাঁর আগাম শ্রাদ্ধে পড়শিরা সবাই ভাল ভাবে খেয়েছেন কিনা তাও নিজে জিজ্ঞেস করেন। অভিনব এই ঘটনায় বিস্মিত উপস্থিত সবাই। অনেকে তাঁর এই স্বউদ্যোগের ঢালাও প্রশংসা করে তাঁকে সাহসী তকমা দেন অনেকে আড়ালে এমন অদ্ভুত কাণ্ড দেখে বাড়াবাড়ি বলে মনে করেন।
তবে যাঁর শ্রাদ্ধ, সেই শান্তি দাস এতে মানসিক ভাবে তৃপ্ত ও শান্তি পেয়েছেন বলে জানিয়ে দেন।

Be the first to comment