সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কার্তিক পুজোর বিসর্জন শেষ হয়েছে বেশ কয়েক দিন আগেই। কিন্তু কৃষ্ণনগরের বিসর্জন ঘাটে দাঁড়ালেই বোঝা যায়— কাজ শেষ হলেও বিশৃঙ্খলা এখনও একই জায়গায় পড়ে আছে। ঘাটজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে প্রতিমার বাঁশ-কাঠের কাঠামো, থার্মোকল, নোংরা কাপড়, ফুল-বেলপাতা এবং নানা পুজোসামগ্রী। জলঙ্গির জলে ভাসছে কাঠামোর টুকরো। সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, এই সব বর্জ্য আর রঙের রাসায়নিক সরাসরি নদীর জলে মিশে যাচ্ছে।
ফল যা হওয়ার, তাই— জল ঘোলা, অক্সিজেনের মাত্রা কমছে, নদীর প্রাণীজগৎ বিপন্ন। প্রতিমার রঙে থাকা সীসা আর ক্রোমিয়াম জলের স্বাভাবিক প্রবাহেও প্রভাব ফেলছে।
এদিকে সদ্য প্রশাসক পদে দায়িত্ব নেওয়া কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অঞ্জনা নদী বহুদিন আগেই মৃতপ্রায়। জলঙ্গি এখন শেষ ভরসা। অথচ এই নদীর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে তেমন কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বড় পুজোর কাঠামো দ্রুত তোলা হলেও কার্তিক পুজোর বিসর্জনের চারদিন কেটে গেছে— পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ এখনও শুরু হয়নি। নদীর জল ব্যবহার করা মানুষদের উদ্বেগ আরও গভীর; এই দূষিত জল থেকে চর্মরোগ, পেটের অসুখ-সহ নানা সমস্যা বাড়তে পারে।
জলঙ্গির তীরে দাঁড়িয়ে স্থানীয় রাহুল দত্তের মন্তব্য, “এই নদী শহরের প্রাণ। এখনকার ছবি ভয়ানক। কাঠামো, পচা ফুল ভাসছে সর্বত্র। এভাবে নদীকে অবহেলা করলে শেষ ক্ষতি আমাদেরই হবে। দ্রুত ঘাট পরিষ্কার করে নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনা জরুরি।”
মৎস্যজীবী হরিপদ মাঝির কথায়, দূষণ বাড়লে মাছ কমে যায়, রাসায়নিক মিশলে অনেক মাছ মারা পড়ে। তখন জীবিকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নদী বিশেষজ্ঞ সুপ্রতিম কর্মকার স্পষ্ট করে বলেন, নদী এক জীবন্ত সত্তা। নদী বাঁচলে তবেই জলজ প্রাণ ও পুরো বাস্তুতন্ত্র টিকে থাকবে। দূষণ রোধ না হলে ক্ষতি অপরিবর্তনীয়।
জলঙ্গি বাঁচানোর দাবি নতুন নয়, কিন্তু বিসর্জনের পরের ছবি আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে—সময় খুব বেশি নেই।

Be the first to comment