রোজদিন ডেস্ক : নিয়ম, কানুনের বালাই নেই, শিক্ষাদানের নামে যথেচ্ছার, ইচ্ছে মতো ফি, অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো, এটাই হল দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির চেনা ছবি। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কাজকর্মে রাশ টানতে এবার আসরে নামল সুপ্রিম কোর্ট। আর তাতেই আশার আলো দেখছে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্তরা। ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা কীভাবে চলছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে। আদালত কেন্দ্র, রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসিকে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের পরিকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দায়ের হওয়া একটি আবেদনকে কেন্দ্র করে এই মামলা শুরু। সেখান থেকে বিষয়টি একটি বৃহত্তর জনস্বার্থ মামলায় পরিণত হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গোটা কর্মকাণ্ডে আরও বেশি স্বচ্ছতা আনতে হবে।আদালতের নির্দেশের মূল বিষয় হল, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সব রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ইউজিসি চেয়ারম্যানকে ব্যক্তিগতভাবে হলফনামা জমা দিতে হবে। কেউ নিজের দায়িত্ব অন্য কারও কাছে অর্পণ করতে পারবেন না। বেঞ্চ স্পষ্ট বলেছে, হলফনামায় কোনও তথ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা হলে আদালত কড়া অবস্থান নিতে বাধ্য হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ সামনে আসার পরই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রকৃত ক্ষমতা কারা প্রয়োগ করছেন তাও নির্দিষ্ট ভাবে জানতে চেয়েছে আদালত। এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে তাদের প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় জড়িত সব ব্যক্তিদের নামের তালিকাও দিতে বলা হয়েছে। পরিচালন সমিতি গঠন ও তার সদস্য নিয়োগের পদ্ধতিও জানাতে হবে। ইউজিসিকে হলফনামা দিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির তদারকিতে তাদের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তারপর তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাবে সুপ্রিম কোর্ট।

Be the first to comment