রোজদিন ডেস্ক : প্রথম সন্দেহের আঙুল তুলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। গত বুধবার মহারাষ্ট্রর প্রয়াত প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার নেপথ্যে অন্য কিছু কারণ আছে কিনা তা নিয়ে শীর্ষ আদালতের তত্বাবধানে তদন্তর দাবি ও করেছিলেন তিনি।
এবার এই নিয়ে প্রশ্ন তুললো কংগ্রেস, শিবসেনাও।
অজিত পাওয়ারের কাকা তথা ঝানু রাজনীতিবিদ শরদ পাওয়ার অবশ্য সেদিনই জানিয়ে দেন, এটি নিছকই দুর্ঘটনা। এর নেপথ্যে কোন রাজনীতি নেই।
প্রয়াত নেতার স্ত্রী, পুত্ররাও এই নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলেননি। পরন্তু তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার গত শনিবার মহারাষ্ট্রর মন্ত্রী পদে শপথও নিয়েছেন।
অন্যদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার এক সপ্তাহও হয়নি, এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মহারাষ্ট্রর কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াদেত্তর। তিনি বলেন, অজিত দাদার আচমকা মৃত্যু ষড়যন্ত্র হলেও হতে পারে! তিনি এই বিষয়ে তদন্তের দাবি করে বলেন, এনসিপি-র দুই পক্ষ আবার এক হয়ে যাওয়া আটকাতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়নি তো? এর জন্যই কি তড়িঘড়ি উপ মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়া হোল?
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিরও প্রশ্ন ছিল, এনসিপি-র দুই গোষ্ঠী মিলে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলার পরই কেন এই দুর্ঘটনা??
মহারাষ্ট্রর কংগ্রেস নেতার বক্তব্য ফের সেই ইস্যু উসকে দিল বলে রাজনৈতিক মহল মনে করেন।
শিবসেনার (উদ্ধব গোষ্ঠী) সাংসদ সঞ্জয় রাউতও বলেন, অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত।
তাঁর নিজের দলেরও এই বিষয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত বলে তিনি বিতর্ক উসকে দেন। বলেন, পর্দার আড়ালে নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছে। কিছু সন্দেহজনক আছে। বিজেপিকে নিশানা করে সঞ্জয় রাউত আরও বলেন, এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীর মেলার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি বলেছিল, তাদের কাছে সেচ দফতরের ফাইল আছে। এর পরই এই রহস্যজনক দুর্ঘটনা হল!! অজিত পাওয়ারও বলেছিলেন, তাঁর কাছে কয়েক জন বিজেপি নেতার ফাইল আছে। তিনি সংসদে এই সব বিষয় তুলবেন বলে জানান।
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর সপ্তাহ না যেতেই বিরোধী নেতাদের এই ধরনের বক্তব্যে বিজেপি শিবির ও অস্বস্তিতে। যদিও এই নিয়ে এখনই তাঁরা এই নিয়ে কিছু বলেননি।

Be the first to comment