কল্যাণী এইমসে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা ও অপহরণ, বহরমপুর থেকে গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত

Spread the love

নিজস্ব সংবাদদাতা | নদিয়া : কল্যাণীর অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্স -এ চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা ও অপহরণের অভিযোগে বহরমপুর থেকে গ্রেফতার হল দুই ব্যক্তি। ধৃতদের নাম বাপন মন্ডল ও আলমগীর শেখ। অভিযোগ, তারা নদিয়ার হরিণঘাটা এলাকার এক যুবকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে অপহরণ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিণঘাটার বাসিন্দা জিতু সিনহার কাছ থেকে অভিযুক্তরা এইমসে চাকরি করিয়ে দেওয়ার নামে একাধিক কিস্তিতে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করে। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও চাকরি না হওয়ায় জিতু টাকা ফেরত চান। সেই সময়ই তাঁকে ভয় দেখিয়ে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনায় জিতুর পরিবারের পক্ষ থেকে হরিণঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে শুক্রবার গভীর রাতে গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অবস্থান চিহ্নিত করা হয় বহরমপুর শহরে। এরপর পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেই দু’জনকে গ্রেফতার করে।

শনিবার ধৃতদের কল্যাণী মহকুমা আদালতে তোলা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতারণা চক্রের বিস্তার ও এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার কল্যাণী এইমসে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। অতীতে একই ধরনের ঘটনায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে একাধিকবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে এই প্রতিষ্ঠান।

এই ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন কল্যাণীর বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। পাশাপাশি রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার-এর নামও বিভিন্ন বিতর্কে উঠে এসেছিল।

এবার ফের প্রতারণার চক্র ধরা পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন উঠছে, দেশের অন্যতম আধুনিক কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান যদি প্রতারকদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে কতটা নিশ্চয়তা থাকবে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ ধাপোলা জানান, “একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে আরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত থাকতে পারে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পুরো ঘটনার পর্দাফাঁস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*