রোজদিন ডেস্ক : আমরা যা বলি, তা করেও দেখাই। এটাই আমাদের অঙ্গীকার, এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। এই কথা বলে ছাব্বিশের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করলেন তৃণমূলনেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশিত হল বাংলার জন্য দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা। তিনি বলেন, আর কোনও উন্নয়ন বাকি আছে বলে মনে হয় না। ১ কোটি ২০ লক্ষ কাঁচা বাড়ি পাকা করে দিয়েছি টাকা বন্ধ করা সত্ত্বেও। ক্ষমতায় যখন আসি, পানীয় জল যেত ২ লক্ষ বাড়িতে। এখন এক কোটি বাড়িতে যায়। আগামী দু’এক বছরে চাইব, সকলের বাড়িতে পৌঁছে যাক। এটাই অঙ্গীকার।
তিনি আরও বলেন, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা কিছু বাকি আছে। সমীক্ষা চলছে। অনেকে মারা যান, সেটা দেখতে হবে, বাকিটা সময়মতো করে দেব। সংক্ষেপে বলছি, সবই করে দিয়েছি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বৃদ্ধি করেছি। বলেছি, সারা জীবন পাবে। যদি কেউ বলে, করব, তারা ভোটের সময় বলবে করব, তার পরে করব না। আমরা করে দিয়েছি। সাধারণ শ্রেণির মহিলারা পাচ্ছেন দেড় হাজার টাকা। তফসিলি জাতি, জনজাতিরা বার্ষিক পাচ্ছেন ২০,৪০০। এক কোটি যুবকদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা বৃত্তি পাচ্ছেন, তারাও পাবেন ভাতা। মেধাশ্রী, যুবশ্রী, সেগুলি পাবেন। পড়াশোনা করার বৃত্তি পাবেন। যতদিন চাকরি না পাচ্ছেন, ততদিন এই ভাতা দেব। ২ কোটি ছেলে-মেয়েদের চাকরি দিয়েছি। মোদি সরকার বলেছিল ২ কোটি চাকরি দেবে। ভারতে বেকারত্ব বেড়েছে ৪০ শতাংশ (জাতীয় গড়)। এখানে ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে। দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এখানে সেই সংখ্যা কমেছে। ১ কোটি ৭৫ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার উপরে নিয়ে গিয়েছি। দুয়ারে সরকারের কাজ যেমন চলছিল তেমন চলবে। তবে এবার দুয়ারে চিকিৎসা করব। পাড়ায়, পাড়ায়, ব্লকে ক্যাম্প হবে। আসলে এই কাজগুলি যাঁরা করছিল তাঁদেরই তুলে নিয়ে চলে গেছে। কিন্তু কাজ কোনওভাবেই বন্ধ হবে না। প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুয়ারে মেডিক্যাল ক্যাম্প হবে। প্রত্যেকের কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেব, এটা আমাদের অঙ্গীকার। আমি কৃষিজীবী পরিবারগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা নিশ্চিত করতে, ভূমিহীন কৃষকদের সহায়তা প্রদান করতে এবং কৃষি খাতের সামগ্রিক মানোন্নয়ন ঘটাতে ৩০,০০০ কোটি টাকার একটি ‘কৃষি বাজেট’ প্রবর্তনেরও অঙ্গীকার করছি। আগে দুয়ারে সরকার যে করেছি, তা চলবে। আমার পাড়া আমার সমাধানে বুথে বুথে আট হাজার কোটি টাকা দিয়েছি। সেই কাজগুলি যারা করছিল, তাদের তুলে নিয়ে গিয়েছে, যাতে করতে না পারে। কাজ তো হবেই। কৃষিতে আপনারা জানেন, আলু নষ্ট হলে বিমা করে দিয়েছি। চাল সবটাই সংগ্রহ করে নিই। আগের বার ৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন সংগ্রহ করেছি। এ বারেও হচ্ছে, হবে। সময় লাগে। আলুও সংগ্রহ করতে শুরু করেছি। কেউ বাইরে বিক্রি করতে চাইলেও আপত্তি নেই। এখন ডিম ৯০ শতাংশ আমরা উৎপাদন করি। পেঁয়াজ আগে বাইরে থেকে আসত। এখন আমরা উৎপাদন করি। ইলিশের জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হত। ২০১৩ সালে রিসার্চ সেন্টার করেছিলাম। এখন বাংলা ইলিশে ভাসে।
এরপরেই তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমার সরকার প্রতিটি ব্লক ও শহরে বার্ষিক ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবিরের আয়োজন করবে। ‘বাংলার শিক্ষায়তন’-এর আওতাধীন সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়ের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি আমি নিশ্চিত করব। বাজেটে পাশ হয়েছে। মন্ত্রিসভায় পাশ করেছি। কয়েক হাজার স্কুলের আধুনিকীকরণ হবে। ই-লার্নিং হবে। আধুনিক প্রযুক্তি থাকবে। শিক্ষক নিয়োগ করতে চাই। বিরোধীরা কেস করে দেয়। তাতে ঝুলে থাকছে নিয়োগ। বোঝে না, মানুষ কষ্ট পায়। না হলে এ ভাবে শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মীদের ঝুলে থাকতে হত না। শিক্ষার অধিকার বাংলার সবার। বিশ্বমানের লজিস্টিক ব্যবস্থা, বন্দর, বাণিজ্য পরিকাঠামো এবং একটি অত্যাধুনিক ‘গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার’-এর মাধ্যমে বাংলাকে পূর্ব ভারতের বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে আমি কাজ চালিয়ে যাব। জঙ্গল সুন্দরী, কর্মনগরী রঘুনাথপুরে ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। শালবনিতে জিন্দলরা আগে করেছিল বিনিয়োগ। আবার হচ্ছে। ম্যাঙ্গালোরের কোচ এখানে হচ্ছে। ওয়াগন থেকে ইঞ্জিন, সব এখানে তৈরি হচ্ছে। জাহাজ কারখানাও হচ্ছে। এমএসএমই-তেও আমরা এক নম্বরে। এখান থেকে চামড়ার ব্যাগ বাইরে রফতানি হয়। ২০ লক্ষ সেল্ফহেল্প গ্রুপ আছে। যাঁরা গ্রামে জিনিস তৈরি করে, কিন্তু বিক্রির জায়গা পায় না, তাঁদের ব্যবস্থা করেছি।
দেউচা পাঁচামি থেকে সিমেন্টের হাব, চামড়ার হাব, বিদ্যুতের হাব হয়েছে। এখন ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। দেউচা পাঁচামি হলে আগামী ১০০ বছর বিদ্যুতের সমস্যা হবে না। দাম কমবে। আমি বর্তমানের সকল সুবিধাভোগীর জন্য বার্ধক্যকালীন পেনশন সহায়তা নিশ্চিত করব এবং একই সাথে পর্যায়ক্রমে সকল যোগ্য প্রবীণ নাগরিকের এই আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। প্রবীণদের যত্ন নিতে।হবে।অনেক সময় তাঁদের সন্তানেরা বাইরে চলে যান। তাঁদের দেখার কেউ থাকেন না। তাই প্রবীণদের পাশে, যত্নের আশ্বাসে! এটাও আমাদের অঙ্গীকার। সাতটি নতুন জেলা করেছি। আগামী দিনেও করব। নতুন ব্লক, সাবডিভিশন, পুরসভা তৈরি হবে। যাতে মানুষ ঘরের সামনে পরিষেবা পেতে পারে।

Be the first to comment