পিয়ালী :
২০২৬ বাংলা বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সংকল্পপত্র পেশ করল বিজেপি। ভয় থেকে বেরিয়ে ভরসা, হতাশা থেকে বেরিয়ে আশার আলো, কালরাত্রি, দুঃসময় কাটিয়ে সোনার বাংলা গড়া, মাথা উঁচু করে বাঁচা- সংকল্পপত্র পেশ করে একথাই বললেন অমিত শাহ।

মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য থাকবে বিশেষ মহিলা পুলিশ ব্যাটেলিয়ান দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড। রাজ্যের মহিলাদের জন্য বিজেপির প্রতিশ্রুতি, সমস্ত সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি মানুষের জন্য নতুন চাকরি ও স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে, অর্থাৎ কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিল বিজেপি। তাদের সংকল্পপত্রে বলা হয় বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
সমস্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশন ভোগীদের জন্য কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা এবং সপ্তম পে কমিশন বাস্তবায়ন করা হবে।
আয়ুষ্মান ভারত যোজনা সহ সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প চালু করা হবে। ক্যান্সার স্ক্রীনিং, মহিলাদের স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা, এইচপিডি টিকাকরণ চালু হবে।
অর্থনীতি তথা শিল্প ও বিনিয়োগে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। স্লোগান উঠেছে, অর্থনীতির উন্নতি দরকার/ চাই বিজেপি সরকার। কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সিঙ্গুর একটি শিল্প পার্ক তৈরি করা হবে এবং রাজ্যের চারটি প্রধান শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে। সিঙ্গুরের জমিতে অর্ধেক অংশে এমএসএমই হবে বাকি অংশে ভারী শিল্প হবে।
চা-বাগানের পুনরূপ জীবনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জরাজীর্ণ পুরনো চা-বাগানগুলিকে চাঙ্গা করতে বিজ্ঞানসম্মত পুনঃ রোপন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। দার্জিলিং চা এর খ্যাতি বিশ্ব বিখ্যাত সেই হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করা হবে। ঐতিহ্যবাহী চা-বাগানগুলিকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো হবে যা পর্যটনকে দেবে এক নতুন মাত্রা।
উত্তরবঙ্গের বিকাশ সুনিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান সেখানে গড়ে তোলা হবে। উত্তরবঙ্গে একটা এআইআইএমএস, একটি আইআইটি, আই আই এম গড়ে তোলা হবে।
ভ্রস্টাচার, রাজনৈতিক হিংসার শ্বেতপত্র প্রকাশ হবে। এবং কমিশন তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টের রিটায়ার্ড জাজদের মাথায় রেখে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হিংসার তদন্ত করা হবে।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প পুনরুজ্জীবিত ও আধুনিকীকরণ করা হবে।
অনুপ্রবেশ নিয়ে বিজেপি তাদের ১৫ প্রতিশ্রুতিতে লিখেছে ভারতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ।
কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ বন্দোবস্তের কথা বলা হয়েছে, ধান আলু ও আম চাষে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হবে। এতে সরকারি সাহায্য মিলবে। এবং কৃষকদের জন্য ফসলের ন্যায্যমূল্য ও সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মৎস্য সম্পদ যোজনা অধীনে প্রতিটি মৎস্যজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং মৎস্য চাষ ও তার রপ্তানিতে বিশেষ ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রণয়ন করা হবে।
কয়লা গরু বালি পাচার সংক্রান্ত দুর্নীতি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাট মানি সংস্কৃতি ও সিন্ডিকেট রাজ নির্মূল করা হবে।
একটি বিশেষ বন্দেমাতরম সংগ্রহশালা বা মিউজিয়াম তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি বঙ্কিমচন্দ্র রবীন্দ্রনাথ সহ মনীষীদের সম্মান জানিয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
ধর্মাচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইন বলবৎ করা হবে। গৌড়ীয় মঠ ভারত সেবাশ্রম সংঘ ইসকন প্রভৃতি বাংলার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পিঠস্থান গুলিকে আরো ভালোভাবে তৈরি করা হবে।
থিয়েটারের বার্ষিক অনুদান বাড়িয়ে এক লাখ টাকা এবং থিয়েটার এর জন্য কলেজ স্থাপন করা হবে। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও বিশেষ জোর দেওয়া হবে, উত্তরবঙ্গে তৈরি হবে খেলা বিশ্ববিদ্যালয়।
কলকাতাকে মেট্রো দিয়ে মুড়ে ফেলা হবে। ১০০% মেট্রো চলাচল হবে এবং ট্রাফিক সমস্যার সমাধান হবে।
ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাসগত পরিবর্তন রুখতে জিরো টলরেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
অনুপ্রবেশ রুখতে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া যেখানে নেই সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে সেই বেড়া দিয়ে সীমান্তকে সুরক্ষিত করা হবে।
গঙ্গাসাগর সুন্দরবন দার্জিলিং দীঘা মন্দারমনি সর্বোপরি রাজধানী কলকাতা কে আন্তর্জাতিক মানে সাজিয়ে তোলা হবে। পর্যটনে দেওয়া হবে বিশেষ গুরুত্ব। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষাতেও রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় নিরলস কাজ করা হবে।
এদিনের সংকল্পপত্র প্রকাশ অনুষ্ঠানে অমিত শাহবলেন কখনো আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত বলতে হবে না এত রাতে মেয়েদের কেনো বাইরে যেতে হয়?
কুলপি এবং তাজপুরে আধুনিক ডিপ সি পোর্ট তৈরির কথা বলার পাশাপাশি বর্তমান যে পোর্ট (বন্দর) আছে তার আধুনিকীকরণের কথাও বলা হয়।
কুরমালি ও রাজবংশী ভাষাকে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তপশিলি অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়।
অমিত শাহ বার বার কবিগুরু কে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন (চিত্ত যেথা ভয়শূন্য ,উচ্চ যেথা শির) ভয় মুক্ত হয়ে ভরসার সঙ্গে রাজ্যে পদ্ম ফুটিয়ে কবিগুরুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া হবে।

Be the first to comment