নারী ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষায় বিজেপির বিশেষ ঘোষণা, সরকারি চাকরিতে মেয়েদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ

Spread the love

পিয়ালী : 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর জনকল্যাণমুখী যেসব প্রকল্প করেছিলেন তার মধ্যে কন্যাশ্রী ও লক্ষ্মীর ভান্ডার বিশেষ উল্লেখযোগ্য। আছে রূপশ্রীও। সমালোচকরা একে ভাতা বলে বিঁধলেও মেয়েদের ড্রপ আউট ঠেকাতে কন্যাশ্রী এবং সাধারণ মহিলাদের হাত খরচ পাইয়ে দিতে লক্ষ্মীর ভান্ডার ও বিয়ের সময় রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা শুধু যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটে ডিভিডেন্ট দিয়েছে তাই নয়, এর একটা সামাজিক উন্নয়নমুখী ভূমিকাও আছে।

আজ কলকাতায় অমিত শাহ বিজেপির সংকল্পপত্র তথা ইশতেহার প্রকাশ করে বলেন রাজ্য সরকারের চালু কোন প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। অর্থাৎ তারা জিতে এলে উন্নয়নমুখী প্রকল্পগুলো যেমন চলবে তেমনি মহিলা ও যুবকদের মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে (প্রতি মাসের এক থেকে পাঁচ তারিখের মধ্যে)। অনেকে একে প্রতিযোগিতামূলক ভাতার রাজনীতি বলে উল্লেখ করলেও এর যথেষ্ট সামাজিক গুরুত্ব আছে। সমালোচকদের মতে এটি মমতার মহিলা ভোট ভাঙ্গিয়ে নেওয়ার এবং নতুন প্রজন্মের ভোটে ভাগ বসানোর জন্য বিজেপির চেষ্টা। কিন্তু সংকল্পপত্র খতিয়ে দেখলে বা অমিত শাহর বক্তব্য মন দিয়ে শুনলে বোঝা যায়, নারী ক্ষমতায়নে তাদের বিশেষ কিছু প্রচেষ্টা রয়েছে।

বিশেষ করে অমিত শাহ বলেন, পুলিশ বাহিনী-সহ রাজ্যের সমস্ত সরকারি চাকরিতে পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

এর পাশাপাশি ৭৫ লক্ষ নারীকে লাখপতি দিদি হিসেবে গড়ে তুলে তাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে বলে জানান অমিত শাহ।

নারী সুরক্ষায় প্রতিটি মহকুমায় অন্তত একটি করে মহিলা থানা এবং প্রতিটি থানায় একটি করে নারী সহায়তার ডেস্ক স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি

সংকল্পপত্রে বলা আছে নারীদের ওপর অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। কঠোর নীতি গ্রহণের মাধ্যমে ব্যস্ত শহরাঞ্চল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মহিলা হোস্টেল ও জনবহুল স্থানে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে

শহরের জনবহুল এলাকা ও প্রকাশ্য স্থানে টহল দেওয়ার জন্য মহিলা পুলিশদের নিয়ে বিশেষ দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড গঠন করা হবে।

মাতঙ্গিনী হাজরা এবং রানী শিরোমনির নামে রাজ্য পুলিশ বাহিনীতে দুটি বিশেষ মহিলা ব্যাটেলিয়ান তৈরি করা হবে।

বেসরকারি সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করে রাজ্যের শিল্পনীতিতে মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে।

কর্মরত মহিলাদের সুবিধার্থে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় একটি করে হোস্টেল তৈরি করা হবে।

আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের গর্ভবতী মহিলাদের ২১ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা এবং ছটি পুষ্টি সরঞ্জামের কীট প্রদান করা হবে।

অঙ্গনওয়ারি ,আশা,প্রাণিমিত্রা কর্মীদের মাসিক বেতন পুনর্বিবেচনা করে তাদের কাজের উপযুক্ত ও সম্মানজনক পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।

নাবালিকাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং বাল্যবিবাহ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মেয়েদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে অবিবাহিত ছাত্রীদের স্নাতক স্তরে ভর্তির সময় এককালীন পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

৪০ বছরের কম বয়সী সমস্ত মহিলাদের বিনামূল্যে জরায়ু মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী এইচপিভি টিকা দেওয়া হবে।

প্রান্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের ৪০ উদ্ধ মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে স্তন ক্যান্সার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

যে সব ক্ষেত্রে নারীরা তাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের সুবিচার পাননি সেই সমস্ত মামলা পুনরায় খোলা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ও দ্রুত ক্ষতিপূরণ এবং আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।

২৬ শে নির্বাচনের আগে বিজেপির সংকল্প পত্র প্রকাশ করে নারীদের উদ্দেশ্যে তথা রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন এখনকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় যেমন বলেন, এত রাতে মেয়েদের বাইরে বেরোনো উচিত নয়। আমরা মেয়েদের এমন সুরক্ষা দেবো যে তারা সব সময় ভয়েকে সরিয়ে ভরসার হাত ধরে রাস্তাঘাটে চলাচল করতে পারে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*