কানপুরে যমজ কন্যাকে খুন করে আত্মসমর্পণ

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : উত্তর প্রদেশের কানপুরে এগারো বছরের যমজ কন্যাকে খুন করে আত্মসমর্পণ করলেন বাবা৷ পেশায় মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ শশি রঞ্জন মিশ্র আদতে বিহারের বাসিন্দা৷ স্ত্রী রেশমা ক্ষেত্রী শিলিগুড়ির মেয়ে। ২০১৪ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। যমজ দুই কন্যা ও ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে তাঁরা কানপুরে থাকতেন।
পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, ১১২-য় ফোন পেয়ে তারা শশি রঞ্জন মিশ্রর বাড়ি যায়। সেখানে মেঝের ওপর দুই বালিকার গলাকাটা দেহ দেখে শিউরে ওঠে পুলিশ। রক্তে ভাসা দুই কন্যার মৃতদেহর পাশেই বসেছিলেন বাবা। পুলিশকে তিনিই ফোন করেছিলেন। কেন এই হাড়হিম করা হত্যা, পুলিশ তদন্ত করছে। শশি রঞ্জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধৃতর স্ত্রী রেশমা জানান, প্রতিদিন মদ্যপান করে তাঁর ওপর অত্যাচার করতেন স্বামী। দুই মেয়েকে নিয়ে ঘরে থাকলেও শিশু পুত্র সহ তাঁকে সেই ঘরে ঢুকতে দিতেন না। সারা বাড়ি সিসিটিভি-তে মুড়ে দিয়েছিলেন। তিনি বাইরে থেকে স্বামীর ঘর দেখতে পেতেন।
রেশমার একটি পুরুষ দের পার্লারে কাজ করা নিয়েও চরম অশান্তি হত। তাঁকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলতেন স্বামী, বাড়ি এলে দরজা খুলতে চাইতেন না।
অতিষ্ঠ হয়ে ছেলেকে নিয়ে বাবা মায়ের কাছে চলে গেছিলেন তিনি। ফেরেন ৯ মাস পরে। এই ভয়ংকর ঘটনায় বিপর্যস্ত রেশমা জানান, গত রাতে তাঁরা এক সঙ্গে রাতের খাবার খান। স্বামী দুই মেয়েকে নিয়ে ঘরে চলে যান। রাত আড়াইটে নাগাদ এক কন্যাকে নিয়ে স্বামীকে টয়লেটে যেতেও দেখেন। ফেরার পর ঘরের আলো নিভে যায়। তিনিও ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর কি হয়েছে তিনি কিছু জানেন না।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন শশি রঞ্জন।। কিন্তু দুই বালিকা কন্যাকে কেন খুন করলেন তাঁরা বুঝতে পারছেন না।
এই ভয়ংকর ঘটনায় স্বামীর চরম শাস্তির দাবি করেছেন রেশমা। এমন হাড়হিম ঘটনায় প্রতিবেশীরাও হতবাক। ফুলের মত দুই বালিকার এমন নৃশংস হত্যায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*