পিএম – সিএম এক সাথে, উন্নয়ন হবে দিনে রাতে

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : 
পিএম – সিএম একসাথে, উন্নয়ন হবে এক সাথে! রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনের আগের শেষ রবিবার প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী এই সুর বেঁধে দিলেন রাজ্যবাসীর মনে।


আজ রৌদ্রদগ্ধ দক্ষিনবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় প্রচারের ঝড় তোলেন তিনি। প্রচন্ড গরম, রোদ উপেক্ষা করে তাঁর প্রতিটি জনসভায় ভিড় উপছে পড়ে। যা দেখে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যে এবার পরিবর্তন হবেই। শাসক তৃণমূল কে তীব্র আক্রমণ করে জানিয়ে দেন, এবার সিন্ডিকেট, দুর্নীতি সহ সব রকম মহা জঙ্গলরাজের অবসান হতে চলেছে।

গতকাল রাতে রাজ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্গাপুরের একটি হোটেলে ছিলেন। সকাল হতেই পুরোদমে তৈরি হয়ে চলে যান প্রথমে বাঁকুড়া, এরপর পুরুলিয়ার জনসভায়৷
দুটি সভাতেই রাজ্যের শাসক দল-সহ বিরোধীদের একের পর এক তোপ দাগেন। সিংহ গর্জনে বলেন, রাজ্যে শিক্ষক ছাড়াই স্কুল চলছে। তুষ্টিকরণের জন্য বরাদ্দ বাড়ছে মাদ্রাসায়। অনুপ্রবেশের জন্য বদলে যাচ্ছে রাজ্যের ভাষা, সংস্কৃতি, জনবিন্যাস। বিজেপি এই সব কখনও চলতে দেবে না৷ তাঁরা ক্ষমতায় এলে মহিলারা বছরে ৩৬ হাজার টাকা পাবেন, গর্ভবতী মায়েরা পাবেন ২১ হাজার টাকা, রাজ্যের মেয়েদের শিক্ষিত করতেও ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি যে সব সরকারি সুবিধা পায়, এখানে টিএমসি-র বিরোধিতায় তা পায় না।
এখানে আর কাটমানি, মাফিয়া রাজ চলবে না বলেও তিনি হুঙ্কার দেন।


টিএমসি-কে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, এরা মহিলা সংরক্ষণ এর বিরোধিতাও করেছে৷ ভোটের বাক্সে টিএমসি-র এই “অপরাধের” সাজা দেওয়ার আহবান জানান।
কৃষকরা ও ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা পাবেন বলে ঘোষণা করেন। রাজ্যে আলু কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন, হিমঘরগুলি টিএমসি-র সিন্ডিকেট কবজা করে রেখেছে৷ বিজেপি তা উপড়ে ফেলে দেবে। এই সবই মোদির গ্যারান্টি!

আজও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে নির্মমতা, নির্মম সরকারের কথা। বাঁকুড়াকে শিল্পকলা, সুর, সঙ্গীতের ভূমি বলে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে রামানন্দ চ্যাটার্জি, যামিনী রায়ের মত শিল্পী দেশকে দিয়েছে। মন্দির, মূর্তি, টেরাকোটায় সমৃদ্ধ এখানকার শিল্পীরা কেন্দ্রের বিশ্বকর্মা প্রকল্পের সুবিধাও পান না। এর জন্যও টিএমসি-কে দায়ী করেন তিনি।
মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল নিয়ে কংগ্রেস ও টিএমসি ষড়যন্ত্র করেছে বলে তোপ দাগেন। টিএমসি দেশের মহিলা আদিবাসী রাষ্ট্রপতিকেও সম্মান দেয় না বলে অভিযোগ করেন।
বিজেপি মহিলাদের সশক্তিকরণ চায় বলে দাবি করেন তিনি। বাঁকুড়ার সভায় বাংলায় বলেন, “আপনাদের শুভ নববর্ষ জানাই। সারা দেশের ওপর মা লক্ষ্মীর কৃপা বর্ষিত হোক! ” মন্দিরের শহরে তাঁর এই সভাকে সৌভাগ্য বলে জানান তিনি।
তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে তিনি দেখছেন ৪ মের পর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত। পিএম, সিএম বিজেপি থেকে হোলে পুরুলিয়ার বিকাশ দ্বিগুণ গতিতে হবে বলে জানান।


তাঁর দাবি, আদিবাসীদের জন্য তাঁরাই আলাদা মন্ত্রক করেছেন৷ তিন গুণ বরাদ্দ বৃদ্ধি হয়েছে। বিজেপিই বীরসা মুন্ডার জন্মদিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে৷ আদিবাসী সমাজ থেকে রাষ্ট্র পতি, অনেক মুখ্যমন্ত্রী করেছে। সাঁওতালি ভাষার উন্নয়নে কাজ করেছে।
রাজ্যের শাসক দলের উদ্দেশ্যে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,ভোটের আগেই দুষ্কৃতিরা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন। নাহলে ৪ মের পর কেউ বাঁচতে পারবেন না।
এই রাজ্যের জনতাকে “বাঘ” বলে জানিয়ে তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, এই জনতা এখন ফুঁসছে। তাঁরা আর টিএমসি-র অত্যাচার সহ্য করবেন না। এই নির্মম সরকার হঠাতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। এখানে বদল হবেই হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*