রোজদিন ডেস্ক
কলকাতা প্রেস ক্লাবে ২০২৬ এর নির্বাচনের আগে মিট দ্যা প্রেস। উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। দুপুর দুটো নাগাদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। গতকালই মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করতে দেয়নি কংগ্রেস সহ বিজেপি বিরোধী শক্তি গুলি। স্বাভাবিকভাবে বিজেপি কংগ্রেসের দিকে দোষারোপের আঙুল তুলেছে। কংগ্রেস অবশ্য তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেছে, এই বিল নারীদের সুরক্ষার দিতে যতটা বেশি আগ্রহী, তার থেকে বেশি ডিলিমিটেশন করার প্রচেষ্টা ।
গতকাল লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী,তৃণমূল কংগ্রেস সংসদীয় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে এই বিল পাস করতে না দেওয়ায় তাদের সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তবে কি নির্বাচনের আগে কং গ্রেস তৃণমূল কংগ্রেস সম্পর্ক খানিকটা শুধরালো? এই প্রশ্নের জবাবে শুভঙ্কর সরকার বলেন এরকম কোন ব্যাপার নেই। আমরা রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় শক্তিকেই পরাস্ত করতে চাই। রাহুল গান্ধীও তার পশ্চিমবঙ্গ সফরে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস দুজনকেই সমালোচনা করেছেন। শুভঙ্কর বাবু আরো জানান ,রাহুল গান্ধী লোকসভায় বিরোধী দলনেতা। তাই তিনি শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়,অন্যান্য বিরোধী যে দলগুলি আছে তাদের নেতাদের প্রত্যেককেই ফোন করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মহিলা বিল ইস্যুতে। এটা সংসদে ফ্লোর কোঅর্ডিনেশন ছাড়া আর কিছুই নয়।দেশের স্বার্থে এটা করতে হয়েছে। নাহলে, একটা anti-national বিল পাস হতো।
শুভঙ্কর বাবু বলেন ২০০৬ এর পর ২০২৬, ২০ বছর পর তারা একলা চলার ফয়সালা নিয়েছেন এবং ২৯৪ টি আসনেই একলা লড়ছে কংগ্রেস। তাদের ম্যানিফেস্টোতে শুধু ভাতা নয়, কর্মসংস্থান বা সদর্থক চিন্তাভাবনা ও গঠনমুলক প্রতিশ্রুতির কথা বলা আছে।
তৃণমূল ও বিজেপিকে একই স্কুলের ছাত্র বলে দাবি করেন শুভঙ্কর সরকার ৷ তিনি বলেন, “লড়াইটা আদর্শ ও নীতিতে ৷ আরএসএস-এর স্কুলের রেগুলার ছাত্র বিজেপি ৷ আর তৃণমূল ডিস্ট্যান্সের ছাত্র ৷ ফলে এদের যাকেই ভোট দেবেন, তার মানে আরএসএস-কে সাপোর্ট করা ৷”
শুভঙ্কর বলেন তৃণমূল কংগ্রেস আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু আমাদের মূল লড়াই বিজেপির সঙ্গে। আমাদের উদ্দেশ্য টিএমসিকে সরানো এবং বিজেপিকে রুখে দেওয়া।
বাংলায় এস আই আর গণতন্ত্র হত্যার শামিল বলে উল্লেখ করেন শুভঙ্কর সরকার।
পরে বিধান ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনের শুভঙ্কর সরকার বলেন, ১০০ দিনের কাজ কংগ্রেসের একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাংলায় তিন বছর ধরে ১০০ দিনের কাজের টাকা সাধারণ মানুষ গরিব খেটে খাওয়া মানুষ পায় না কেন্দ্ররাজ্যের লড়াই এর ফলে গ্রামের মানুষ এই কাজ পাননি। অর্থনীতির উন্নয়ন হয়নি। কেন্দ্র ও রাজ্য মিলে ১০০ দিনের কাজের টাকা ৯-৬ করেছে। এর নাম বদল বিজেপি করেছে। মহাত্মা গান্ধীর নাম থেকে ভি বি রামজি করেছে। কিন্তু তৃণমূল বা বিজেপির ইশতেহারে বা কোন সাংবাদিক সম্মেলনে এই ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কিছু বলা নেই। আসলে কংগ্রেস ছাড়া কেউ সাধারণ মানুষের কথা ভাবে না। চার তারিখের পর সব হিসেব বদলে যাবে, কংগ্রেস সাধারণ মানুষের সরকারের কথা বলে বলেন তিনি। তৃণমূল ও বিজেপি বাইনারি পলিটিক্স করে তারা ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করে। এই দুজনের বিরুদ্ধে এবং বাংলার সার্বিক উন্নয়নের পক্ষে আমরা ২৬ শে নির্বাচন লড়তে চলেছি।

Be the first to comment