পিয়ালী :
জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। দলের হিত বা দলের ভালো যখন দেশের ভালোর থেকে উপরে চলে যায়, কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি-সহ বিরোধীদের স্বার্থপর উদ্দেশ্য দেশের নারী শক্তিকে বহন করতে হচ্ছে। যখন এই বিল পাস হচ্ছিল না তখন কংগ্রেস-সহ দলগুলি টেবিল বাজাচ্ছিল।
দেশের নারী শক্তির উড়ান রুখে দেওয়া হল। এর জন্য আমি নারীদের কাছে ক্ষমা চাইছি। এরা নারী শক্তিকে টেকেন ফর গ্রান্টেড হিসেবে নিচ্ছে।
মহিলা আরক্ষন বিলের বিরোধিতা করে যে পাপ বিরোধীরা করল তার সাজা ওরা পাবে। মহিলাদের আত্মসম্মানে আঘাত করল এই আচরণ।
নারী শক্তি বন্দন সংশোধন দেশের আধি আবাদি অর্থাৎ অর্ধেক জনসংখ্যাকে প্রাপ্য অধিকার দেওয়ার একটা প্রয়াস ছিল।
এই নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম সারাদেশে নারীদের শক্তি প্রদানের একটা উপায় ছিল। কিন্তু কংগ্রেস ও সহযোগীরা এই সম্ভাবনার ভ্রুণ হত্যা করে দিয়েছে। কংগ্রেস-টিএমসি-সমাজবাদী পার্টি এই ভ্রুণ হত্যার অংশীদার। কংগ্রেস সবসময় মহিলা আরক্ষন মহিলা সংরক্ষণ রোখার জন্য ষড়যন্ত্র করেছে।
এইভাবে এই দলগুলো ভারতের নারী শক্তির সামনে নিজেদের আসল চেহারা দেখিয়ে ফেলল। বিরোধীরা এই পাপের সাজা পাবেই। আমাদের মহিলা ক্ষমতায়ন একমাত্র লক্ষ্য ছিল।
কংগ্রেস পরজীবীর মতো আঞ্চলিক দলগুলোর পিঠে সওয়ার হয়ে মহিলাদের অধিকার ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করে। এই পরিবারবাদী দলগুলো ভয় পায় যে মহিলারা যদি সশক্ত হয় তাহলে তাদের নেতৃত্ব বিপদের মুখে পড়বে।
কংগ্রেস ও তার সাথীরা ডিলিমিটেশন বলে প্রতিনিয়ত মিথ্যা কথা বলছে।
এই সংশোধনী বিল সব দল ও রাজ্যের পক্ষে একটা সুযোগ ছিল। বিরোধীরা বুঝেছে মহিলাদের ক্ষমতা বাড়লে তাদের বিপদ। নিজেদের স্বার্থপর রাজনীতির জন্য, এই দলগুলো নিজের রাজ্যের লোকেদেরও ধোঁকা দিল। তৃণমূল কংগ্রেসের কাছেও বাংলার নারীদের অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে একটা সুযোগ ছিল, কিন্তু তৃণমূল সেই সুযোগ হারালো। কংগ্রেস একটা ব্যাপারকে প্রমাণ করল যে তারা এন্টি রিফর্ম বা সংস্কার বিরোধী পার্টি।
এটাই কংগ্রেসের নেগেটিভ রাজনীতি। বিরোধীদের মুখোশ খুলে গেল। কংগ্রেস জিএসটির, ট্রিপল তালাক বিলের বিরোধিতা করে।
কংগ্রেস ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন এর বিরোধিতা করে। কংগ্রেস ভোটারদের সুরক্ষার জন্য এসআইআর-এর বিরোধিতা করে, মাওবাদী নকশালদের খতম করার ক্ষেত্রেও কংগ্রেস বিরোধিতা করে। কংগ্রেস সবসময় নেগেটিভ রাস্তা দেখে।
কংগ্রেসের এই ভূমিকার ফলে ভারত যতটা উচ্চতায় পৌঁছানোর কথা, পৌছতে পারেনি। কংগ্রেস সব সংস্কার কে রুখে দেয়, কার্পেটের তলায় আটকে দেয়।
তিন তালাক থেকে ৩৭০ ধারা খারিজ এসআইআর, সিএএ-র বিরোধিতা সবই করেছে কংগ্রেস। এই ক্ষত মা-বোনেদের মনে থাকবে । নারী শক্তির কাছে বিরোধীদের আসল রূপ প্রকাশিত হল তাদের মুখোশ খুলে গেল।
আমরা হয়তো এই নারী সংরক্ষণ বিল সংখ্যা হিসেবে পাস করাতে পারলাম না কিন্তু দেশের ১০০ শতাংশ নারী তথা মানুষ এই বিষয়ে আমাদের পাশে। কিন্তু আমরা থেমে থাকবো না আমাদের মনোবল কেউ ভাঙতে পারবে না। আমরা দেশের অর্ধেক আবাদীর স্বপ্ন এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য এই সংকল্প পূর্ণ করব।
তৃণমূলকে জবাব দেবে মা মাটি মানুষ, কারণ মা-বোনেদের স্বপ্ন সফল করতে দেয়নি, কংগ্রেস তৃণমূল-সহ দলগুলি।
মেয়েরা সব ভোলে কিন্তু নিজেদের অপমান কখনো ভুলতে পারে না। দেশের ঘটনায় নজর রাখছে দেশের মা-বোনেরা, দেশের মেয়েরা। বিরোধীরা যা করেছে তার শাস্তি পাবে। ২১ শতাব্দীর মহিলারা দেশের সব ঘটনার দিকে নজর রাখে। মহিলা সংরক্ষণ এর বিরোধিতা করে যে পাপ বিপক্ষের দলগুলি করল তার সাজা তাদের পেতে হবে।
নারীশক্তি বন্দন সংশোধন কারুর কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নেবার ছিল না। বরং কিছু দেওয়ার জন্য সংশোধন করা হয়েছিল। এটা সময়ের চাহিদা। এটা উত্তর-দক্ষিণ পূর্ব-পশ্চিম সব রাজ্যে নারী শক্তির সমানাধিকারের প্রয়াস ছিল।
কংগ্রেস-সহ সহযোগী দলগুলি মহিলা সংরক্ষণ রোখার জন্য ষড়যন্ত্র করলো। এইভাবে এই দলগুলো ভারতের নারী শক্তির সামনে নিজেদের আসল চেহারা নিজেদের মুখোশ সরিয়ে মুখ দেখিয়ে ফেলল। কংগ্রেস নিজের আসল চেহারা না দেখিয়ে ইতিহাস রচনার সুযোগ পেয়েছিল। কংগ্রেস পরজীবীর মতো আঞ্চলিক দলগুলির পিঠে চেপে আঞ্চলিক দলগুলির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নষ্ট করলো। কংগ্রেস এই মিথ্যা শিখেছে ইংরেজদের কাছ থেকে। দেশের নারী শক্তি, কংগ্রেস ও তার সহযোগীদের এই পাপের জন্য কোনদিন ক্ষমা করবে না

Be the first to comment