বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে হবে, বৈঠকে পর্যবেক্ষকদের চাপ দিচ্ছেন সিইও এবং আরও এক কর্তা, পর্দাফাঁস করল তৃণমূল

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : নির্বাচন কমিশনেরই নিয়োগ করা অবজার্ভারদের দিল্লির নির্দেশে চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা বিজেপি ক্যাডারদের মতো কাজ করেন। রাজ্যের সিইও ও আর এক কর্তা সুব্রত গুপ্ত সেই চেষ্টাই করছেন। একই সঙ্গে বিজেপি নেতারা নির্বাচনের জন্য অন্য রাজ্য থেকে এখানে টাকা ঢোকাচ্ছে। কিন্তু এসব করেও এ রাজ্যে কিছু হবে না, তাদের হার নিশ্চিত এটা বুঝে গিয়েছে বিজেপি। তাই তারা মরিয়া হয়ে এখন গোটা প্রশাসনকে দখল করার চেষ্টা করছে।

রাজ্যের সিইও-র এই কীর্তি ফাঁস করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান তৃণমূলের দুই প্রতিনিধি মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। কুণাল বলেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা জানতে পারছি, যে সেন্ট্রাল অবজার্ভারদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাদের সঙ্গে বারবার সরাসরি অথবা ভার্চুয়ালি বৈঠক করছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল ও আর এক কর্তা সুব্রত গুপ্ত। কিন্তু তাদের সেই অধিকারই নেই। কারণ, পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করার কথা। তাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে, বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে হবে। তৃণমূল প্রার্থীদের নানা ভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখতে হবে। কোনও ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনগুলিকে ক্যাপচার করার নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে। এই নিয়ে শুক্রবার অন্যতম পর্যবেক্ষক ও হিমাচল প্রদেশের প্রাক্তন সিইও সি পালরাজু তাদের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে এর প্রতিবাদ জানান। সিইও-র এরকম কোনও এক্তিয়ার নেই বলেও জানান তিনি। এরপরই অনেকেই এই নিয়ে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি খারাপ হলে সিইও ওই পোস্টগুলি মুছে দেন ও ওই পর্যবেক্ষককে গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেন। কুণাল বলেন, আমাদের কাছে সব তথ্য আছে, ঠিক সময়েই প্রকাশ করা হবে সব। একই সঙ্গে কুণাল অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতারা অন্য রাজ্য থেকে ঢুকে এখানে টাকা বিলি করছেন। ওড়িশার কয়েকজন বিজেপি নেতা তালড্যাংরায় টাকা বিলি করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। আপাতত তারা থানায় আছেন।

ব্রাত্য বসু অভিযোগ করেন, দিল্লির বিজেপির নেতারা এখন বুঝতে পারছেন, বঙ্গ বিজেপি নেতাদের দিয়ে হবে না। তাই তারা এখন লোক লস্কর, পাইক, বরকন্দাজ সব নামাচ্ছে। তাই সেন্ট্রাল ফোর্স পাঠাচ্ছে। এর মানে।দিল্লির বিজেপি এরা এদের পার্টির লোককে বিশ্বাস করে না, বাংলার মানুষকে বিশ্বাস করে না, নিজেদের পাঠানো কর্তাদেরও বিশ্বাস করে না। ব্রাত্য আরও অভিযোগ করেন, বিজেপির এক নেতা প্রচারে উত্তরবঙ্গকে উত্তর বিহার বলেছেন। এটা কোনও কথার ভুল নয়, এটা আসলে এক বড় চক্রান্ত। উত্তরবঙ্গকে কি এরা বিহারের সঙ্গে জুড়তে চাইছে, প্রশ্ন তোলেন ব্রাত্য। এর আগেও কয়েক দশক আগে এই চেষ্টা হয়েছিল, তখন বাংলা জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল। বিজেপি আবার সেই চক্রান্ত করছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*