মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

Spread the love

পিয়ালী:

চারটে বেজে ১৯ মিনিটে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে প্রবেশ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

অমিত শাহ বলছেন, একটা নামই এসেছে, তাই আমি পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করছি। পুরো কনভেনশন সেন্টারে তখন শুধুই তুমুল হর্ষধ্বনি।

অমিত শাহ সানন্দে শুভেন্দু অধিকারীকে পদ্ম ফুলের বিশাল মালা পরিয়ে দিয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করেন। উভয় নেতার মুখে তখন এক সঙ্গে আনন্দর আলো।

এরপর শমীক ভট্টাচার্য ও নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে মালা পরিয়ে দেন।

ঘড়িতে বিকেল ৫ টা। অমিত শাহ উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আজ আমাদের মন, আত্মা সব তৃপ্ত।

বাংলার জনতাকে কোটি কোটি প্রণাম। কমিউনিস্ট দের পর মমতাজি তা আরও খারাপের দিকে নিয়ে যান।

যে প্রচন্ড বিজয় হয়েছে ভীষণ খুশি। আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি পুরণের চেষ্টা করব।

কবিগুরুর কবিতা, চিত্ত যেথা ভয়শুন্য, উচ্চ যেথা শির এর উল্লেখ করেন তিনি।

রাজ্যে নেতিবাচক পরিস্থিতি হয়েছিল। এখানকার সংস্কৃতি, পরম্পরার প্রশংসা করেন।

বহু দিন পর গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর অবধি বিজেপির জয়যাত্রা৷ এত রাজ্য জয় করে ও মনে হোত শ্যামাপ্রসাদের বাংলায় জয় বাকি। এখন উনি ( শ্যামাপ্রসাদ) যেখানেই থাকুন , নিশ্চয়ই নরেন্দ্র মোদিকে আশীর্বাদ করছেন। ২০১৪ য় উপ নির্বাচনে শমীক ভট্টাচার্য জিতেছিলেন। আর এবার রাজ্যে জয়ী বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গ, কেরলের মত রাজনৈতিক হিংসা কোথাও হয় না।আমরা সোনার বাংলা গড়বো।

এখানে বিজয়ী প্রার্থীদের গড় জয়ের ব্যবধান আঠাশ হাজার৷ নয় জেলায় খাতাই খুলতে পারেনি টিএমসি।

স্বাধীনতার পর প্রথম এত ভোট পড়েছে। ভোটের দিন কোন অনিয়মের অভিযোগ করতে পারেনি টিএমসিও।

দার্জিলিং, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ বহু জেলায় বিজেপিই প্রথম দল।

ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর জয় সব থেকে খুশির, অমিত শাহ বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে ঢুকে ওঁকে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

পানিহাটির রত্না দেবনাথ, হিঙ্গল গঞ্জের রেখা পাত্র, কবিতা মাঝি এই রাজ্যের সব মা, বোনদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বড় প্রতিবাদ।

অবিভক্ত মেদিনীপুর থেকে অজয় মুখার্জি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। এত হিংসা কোথাও হয় না।

যেখানে বিজেপি শাসনে আছে, কোথাও ভোটে হিংসা হতে দেয়নি। কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, ভোটের হার ওরা নানা বাহানা দেয়। রাহুল গান্ধী তাই কখনো এসআইআর, ভোট চুরি এই সব বলেন।

পশ্চিম বঙ্গে ৩২১ জন বিজেপির প্রাণহানি হয়েছে।

আজকের এই বিজয় সারা দেশের জন্য আনন্দের । অঙ্গ বঙ্গ, কলিঙ্গ জয় হয়েছে। বিনয়ের সঙ্গে পরিশ্রমে সাফল্য এসেছে।

মমতাজি রাজনীতির অপরাধীকরণ, প্রশাসনের রাজনীতি করণ করেছেন।

হিংসা, দুর্নীতি, কাটমানি, সিন্ডিকেট সব শেষ হবে এখানে।

মোদিজির নেতৃত্বে ডবল ইঞ্জিন সরকার এখানে সোনার বাংলা করবে। বাংলার বিকাশ হবে। সব দিকে উন্নত বাংলা গড়া হবে। সংস্কৃতি, শিক্ষা সব উন্নত হবে। নাটকের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হবে এখানে।

শুভেন্দু অধিকারীর ঢালাও প্রশংসা করেন অমিত শাহ। বহুদিন ধরে ওঁকে চেনেন। উনি রাজ্যকে সুশাসন দেবেন।

ত্রিশ মিনিটের ভাষণের শেষে বন্দে মাতরম, জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেন অমিত শাহ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*