রোজদিন ডেস্ক :
সোনারপুরে দলীয় কর্মীর বাড়ি গিয়ে তুমুল জনরোষের মুখে পড়লেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা অভিষেক ব্যানার্জি। তিনি যেতেই এলাকার মানুষ তুমুল ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তা রক্ষী, প্রচার মাধ্যমের প্রতিনিধিরা থাকা সত্বেও জনতার তুমুক রোষ ঠেকানো যায়নি।
তিনি বাইকে যেতে গিয়ে তুমুল বাধা পান, বাইক থেকে নেমে তিনি হেঁটে দলের নিহত কর্মীর বাড়ি যাওয়ার পুরো পথই উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ দেখান। তুমুল আক্রোশ আছড়ে পড়ে তাঁর ওপর। নিরাপত্তা কর্মীরা বেগতিক দেখে তাঁর মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেন। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, ঢিল ছোঁড়া হয়। চড়, থাপ্পড়ও পড়ে তাঁর ওপর। বিক্ষোভ কারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় মহিলারা ছিলেন। তাঁরা প্রকাশ্যেই অভিষেক ব্যানার্জি র বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্ষোভ উগরে দেন। এমনকি আর জি করের নির্যাতিতার প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে গালিগালাজ করেন। যে পরিবারের সঙ্গে তিনি দেখা করতে যান, মৃত সেই তৃণমূল কর্মী সম্পর্কেও এলাকার মানূষ তীব্র ক্ষোভ উগরে বলতে থাকেন, চোরের বাড়ি চোর এসেছে! অভয়ার বাড়ি যায়নি কেন বলে তুমুল চিৎকার করেন তাঁরা। অভিযোগ করেন, তৃণমূল আমলে তাঁরা প্রচন্ড অত্যাচারিত হয়েছেন, তখন কোথায় ছিলেন অভিষেক?
সোনারপুরের কামরাবাদের যে বাড়িতে তিনি যাচ্ছিলেন, তার পুরো রাস্তা জুড়েই ছিল বিক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের ভিড়। বস্তুত এলাকার কাউকে তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি, পরন্তু যে যেমন ভাবে পেরেছেন, তাঁকে হেনস্থা করেন। চোর! চোর! ধ্বনিতে সরগরম ছিল গোটা এলাকা। নিরাপত্তা কর্মী ও সঙ্গে আসা কয়েকজন কোন রকমে তাঁকে দলীয় কর্মীর বাড়ি নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছেই দরজা বন্ধ করে দেন তাঁরা। কিন্তু এতেও রেহাই মেলেনি। এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশেষত বহু মহিলা সেখানে দরজা আটকে দাঁড়িয়ে থাকেন। অনেকের হাতে ঝাঁটা, জুতো ছিল। তা দিয়ে দরজায় ধাক্কাও দেন তাঁরা। সঙ্গে চলে তুমুল ক্ষোভ, চোর, চোর ধ্বনিও।
ভিতরে দলীয় কর্মীর পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় অভিষেক ব্যানার্জিকে। বাইরে তখন তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
ভিতরে দৃশ্যত তখন কাঁপছেন টিএমসি-র সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। বারবার বলছেন পুলিশকে খবর দিতে, যতক্ষণ পুলিশ না আসে তিনি বেরোবেন না বলে জানিয়ে দেন।
এর মাঝে এক হাত নেন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও। বলেন স্বাধীনতার পর কোনও মুখ্যমন্ত্রী কে প্রকাশ্যে পাঁচ লক্ষ টাকা নিতে দেখা যায়নি! চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে বলে তোপ দাগেন তিনি।
প্রবল জনরোষে অভিষেক ব্যানার্জিকে রীতিমত বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল।
দীর্ঘক্ষণ এমন জনরোষ চলতে থাকে। দরজা আগলে মহিলারা দাঁড়িয়ে থাকেন৷ তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় পুর পরিষেবা নেই, দিনের পর দিন তাঁদের ওপর বহু অত্যাচার হয়েছে। অভিষেক ব্যানার্জিকেই এই সবের জবাব দিতে হবে বলে তাঁরা সমানে দাবি করতে থাকেন।
বহু মহিলা চিৎকার করে বলেন, অসুস্থ হয়ে যে মারা গেছে, তার বাড়ি এসেছেন উনি!! অভয়ার বাড়ি গেছিলেন? রাজ্যে এত নারী অত্যাচারের সময় কোথায় ছিলেন উনি?
ঘড়িতে তখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা। এক ঝাঁক কেন্দ্রীয় বাহিনী সঙ্গে নিয়ে প্রচুর পুলিশ এলেন অভিষেক ব্যানার্জিকে উদ্ধার করতে। তাঁদের দেখেও উত্তেজিত স্থানীয় মানুষ প্রথমে দরজার কাছ থেকে সরতে চাননি। মূলত মহিলারা দরজা আটকে থাকায় পুলিশ বাহিনী কিভাবে তাঁকে উদ্ধার করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। বেশ কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে তাঁরা উদ্ধার কাজে নামেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী, বিশাল বাহিনী ব্যারিকেড করে তাঁকে বাইরে নিয়ে আসেন। তখনও স্থানীয় মানুষের রোষ বিন্দুমাত্র কমেনি। এলাকার বহু মানুষ বাড়ির ওপর থেকেও সমানে চোর চোর! বলে চিৎকার করেন৷ এলাকার মানুষ জনের তুমুল জনরোষের মাঝে পুলিশ তাঁকে এনে গাড়িতে তোলে।

Be the first to comment