রোজদিন ডেস্ক: সোনারপুরে তৃণমূল শীর্ষ নেতা অভিষেক ব্যানার্জি র ওপর আক্রমণের ঘটনাকে প্রদেশ কংগ্রেস ও রাজ্য সি পি এম প্রায় এক ই ভাবে সংশয়ের চোখে দেখছে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন,এই ঘটনা প্রমাণ করে রাজ্যে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া তৃণমূল কে আবার প্রাসঙ্গিক করে তোলার চেষ্টা করছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। সোনারপুরের এই ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও আগামীতে তাঁর নিরাপত্তা বৃদ্ধির পথ সুকৌশলে সুগম করা,এটি পরিকল্পিত বলেই তাঁরা মনে করেন।
প্রায় এক ই সুর শোনা গেছে সি পি এমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কথায়। তিনি ও পৃথকভাবে সংশয় ব্যক্ত করে বলেন,পরিকল্পনা করে গুরুত্বহীন তৃণমূল কে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। যাতে পুলিশ প্রহরা, জেড শ্রেণির সুরক্ষা ফিরে পায়।
প্রসঙ্গত, এইদিন ই অভিষেক ব্যানার্জি র ওপর হেনস্থার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার তাঁকে এক্স শ্রেণির নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার আরও বলেছেন, সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি র বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে বা থাকতেই পারে। এখন রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার কেন ওঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না তিনি প্রশ্ন তোলেন। রাজ্যে হকার উচ্ছেদ, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম নিয়ে অসন্তোষ, পেট্রোপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, নিটের প্রশ্ন ফাঁস ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে নজর ঘোরাতেই বিজেপি – তৃণমূল বাইনারি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।।শুভঙ্কর সরকার এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষী দের শাস্তির দাবি জানান। সব রাজনৈতিক দল কেই সহিংসতা থেকে দূরে যেতে ও বিতর্কের ভাষা সংযত রাখতে তিনি আর্জি জানান।
অন্যদিকে মহম্মদ সেলিম বলেন, তৃণমূল চোর,দুর্নীতি গ্রস্ত তাঁরা জানেন, কিন্তু লুটের টাকা ফেরত হয় নি, চোরদের শাস্তি হয় নি , বদলে ডিম ছোঁড়া, চোর চোর ধ্বনি ই দেওয়া হচ্ছে। একদিকে তৃণমূল ভয়ে বেরোচ্ছে না, অন্যদিকে হকাররা উচ্ছেদ রুখতে লাল ঝান্ডার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ছেন। আর এস এস বলছে, বামপন্থীরা যেন না বাড়ে! নির্বাচন পরবর্তী হিংসা, খেটে খাওয়া মানুষের ওপর অত্যাচার ইত্যদি নতুন না। অসম থেকে গুজরাট এক ই ঘটনা! লাল ঝান্ডা কে লঘু করতে তৃণমূল কে বাঁচিয়ে তুলতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তৃণমূল, মমতা, অভিষেক ব্যানার্জি যাতে খোলস ছেড়ে বেরোতে পারে তাই নিরাপত্তার দরকার, বিজেপি সেই ব্যবস্থা ই করবে বলে তিনি কটাক্ষ করেন।

Be the first to comment