সংখ্যালঘুদের মূল স্রোতে থাকার বার্তা শমীক ভট্টাচার্যর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : তাঁরা শুধুই হিন্দুদের কথা বলেন, দেশের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ান! বিজেপি সম্পর্কে এমন ধারণা— বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আজ পরিস্কার করে দেন, বলেন, তাঁদের লড়াই উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। জাতীয়তাবাদী মুসলিমদের বিরুদ্ধে নয়।
রাজ্যের সংখ্যালঘুদের তিনি জীবনের মূল স্রোতে আসার বার্তা দেন। বলেন, তাঁরা কাজি নজরুল, মুজতবা আলি, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের পথে আসুন, আফজল গুরুর পথে নয়। রাজ্যের উন্নয়নে সংখ্যালঘুদেরও যে তাঁরা চান, তার আভাস মেলে।
আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবের মিট দি প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে তিনি এই সব বলেন।
এবারের নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতা দখলের জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে। অনেকেরই কাছে এবারের নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী বনাম মুখ্যমন্ত্রীর মর্যাদার লড়াই।
বিজেপি রাজ্য সভাপতির মতে, এই লড়াই বিজেপি বনাম মমতা না, এই লড়াই মমতা বনাম জনতার।
রাজ্যের জনতা ওঁকে আর চাইছে না। টিএমসি আর নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মাননি, দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই তাঁকে এখানে এনে দিয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, উনি যে হেরে যাচ্ছেন, সেই দেওয়াল লিখন বুঝতে পেরেছেন।
এবারের নির্বাচনে বাংলার অস্মিতাকে শাসক তৃণমূল হাতিয়ার করেছে।
এই বিষয়ে প্রশ্নে শমীকবাবু বলেন, বাঙালি অস্মিতা ভাল, কিন্তু তাঁরা সবাই প্রথমে ভারতীয়, পরে বাঙালি। মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষে বিঁধে তিনি বলেন, শক্তি চট্টোপাধ্যায় কোনদিন কথাঞ্জলি বা কবিতা বিতান লেখেননি।
রাজ্যে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম অপ শাসনে অতিষ্ঠ মানুষ পরিবর্তনের জন্য টিএমসি-কে এনেছিল। কিন্তু পরে তারাই রাজ্যের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। সিঙ্গুর নন্দীগ্রামে টিএমসি-র ভূমিকা শিল্প মহলকে ভুল বার্তা দিয়েছে। রাজ্যের উদ্বেগজনক বেকারত্ব দূর করতে ভারী বৃহৎ শিল্প প্রয়োজন। বিজেপি ও শিল্পায়ন সমার্থক বলে জানান বিজেপি রাজ্য সভাপতি।

মহিলা বিল প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন,মহিলারা সব থেকে বেশি রাজনৈতিক সচেতন। সংসদে মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল নিয়ে বিরোধীদের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু এই রাজ্য নয়, সারা দেশেই তা মহিলাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে গেল।
তাঁর দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যর প্রতিধ্বনি করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এখানে বেআইনি অনুপ্রবেশ জনবিন্যাস বদলে দিচ্ছে। রাজ্য সরকার জমি না দেওয়ায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যাচ্ছে না।
শিল্প, চাকরি না থাকায় এই রাজ্য বড় বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হয়েছে বলে শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*