নিজস্ব প্রতিবেদক, নদীয়া :
নদিয়ার চাপরা ব্লককে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হচ্ছে— চাপরা ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শুকদেব ব্রহ্ম একটি কর্মী বৈঠকে নির্বাচন চলাকালীন প্রয়োজনে কোমরে আগ্নেয়াস্ত্র রেখে তা প্রদর্শন করে ভোট করানোর কথা বলেছেন। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এবং নির্বাচনী প্রাক্কালে গোটা এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী দল বিজেপি এই ঘটনাকে সামনে এনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার এই প্রসঙ্গে বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। যদিও তৃণমূলের কাছ থেকে এমন আচরণ নতুন কিছু নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হোক এবং জেলা পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
অন্যদিকে, অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা শুকদেব ব্রহ্ম। তাঁর দাবি, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সম্পূর্ণরূপে এডিট করা এবং বিভ্রান্তিকর। তিনি বলেন, “এই ভিডিওর সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। বিজেপি ভোটে হারতে চলেছে বুঝেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের ভুয়ো ভিডিও ছড়াচ্ছে, যাতে মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।” তিনি আরও দাবি করেন, এই ধরনের অপপ্রচারে কোনও লাভ হবে না, বরং এতে সাধারণ মানুষ আরও সচেতন হবে এবং তৃণমূলের প্রতি সমর্থন বাড়বে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে। বিশেষ করে ভোটের আগে এই ধরনের ভিডিও সামনে আসা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই বা কোনও পদক্ষেপের কথা জানানো হয়নি, তবে রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের ভিডিও ভাইরাল হওয়া এখন নতুন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে, যেখানে সত্য-মিথ্যার সীমারেখা অনেক সময় অস্পষ্ট হয়ে যায়। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—ভিডিওটির ফরেনসিক পরীক্ষা করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এখন দেখার, এই বিতর্কিত ভিডিও ঘিরে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং তার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে কতটা পড়ে।

Be the first to comment