ফলতায় গ্রেফতারির খবর ছড়াতেই বিক্ষোভ, পুলিশ মোতায়েন এলাকাজুড়ে

Spread the love

ডায়মন্ড হারবার, নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা এলাকায় সোমবার তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এক তৃণমূল নেতার দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ তাঁর দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুপুরের দিকে মল্লিকপুর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত দলীয় কার্যালয়কে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে আসবাবপত্র, দরজা-জানালা ও অন্যান্য সামগ্রী ভাঙচুর করে। অফিসের ভিতরে থাকা বিভিন্ন দলীয় সামগ্রী ও নথিপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে এখনও প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে ফলতা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও মোতায়েন করা হয়। পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতাকে সরিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কড়া নজরদারি শুরু করে। প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অন্যদিকে ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ নয়; পরিকল্পিতভাবে দলীয় সম্পত্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মদতেই এই ঘটনা ঘটেছে।

যদিও বিরোধী শিবির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্পর্ক নেই বলেই তাঁদের দাবি।

এদিকে প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ভাঙচুরে জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, আইন নিজের পথে চলবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘিরে যে ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, ফলতার এই ঘটনাও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনেরই একটি প্রতিফলন হতে পারে। আগামী দিনে এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*