পিয়ালী :
২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হচ্ছে ২০২৬-এর একুশে জুন। এবারের বিষয়বস্তু “যোগা ফর হেলদি এজিং”। অর্থাৎ বার্ধক্যেও যোগের মাধ্যমে সুস্থ ভাবে বাঁচার প্রয়াস। যোগবলে যে রোগ আরোগ্য হয় সে কথা আজ অনেকেরই জানা। আমাদের দেশের এই প্রাচীন ঐতিহ্য যোগব্যায়াম আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত। অথচ এর আগে আমাদের রাজ্যের পূর্বতন সরকার এক অদ্ভুত নিস্পৃহতা দেখিয়েছে এই যোগ দিবস উপলক্ষে। যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকার উপেক্ষাই করেছেন।
বর্তমানে বাংলায় বিজেপির সরকার। আর প্রধানমন্ত্রী-সহ বিজেপির মন্ত্রী নেতা-নেত্রীগণ যে এই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী যোগব্যায়াম জীবনযাপনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রেখেছেন একথা বলাই বাহুল্য। যোগের মাধ্যমে রোগমুক্তি ঘটে, শারীরিক মানসিক এবং বিভিন্ন আবেগের নিয়ন্ত্রণ হয় সেই জন্য যোগ অভ্যাস সব নাগরিকেরই প্রয়োজন।
তাই শিশু থেকে বৃদ্ধ যোগাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সেই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী এবারে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় উপস্থিত। আজ আঠারো জুন ২০২৬ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা এবং পূর্বতন সরকারের উপেক্ষার কথা বারবার উল্লেখ করেন পাশাপাশি শিশু থেকে বৃদ্ধ যোগ এর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। তিনি বলেন আরো বড় জায়গায় আমরা এটা করতে পারতাম কিন্তু বর্ষা এবং কর্দমাক্ত মাঠের কথা ভেবে আমরা রেড রোডে ২১ জুন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করব। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যোগ দিবস সারা পৃথিবীতে সময়োপযোগী কার্যক্রম। ১৭৫টির বেশি দেশ যোগকে গ্রহণ করেছে, এ এক অনন্য নজির।
প্রধানমন্ত্রী ২০ তারিখ পশ্চিমবঙ্গ দিবসে উপস্থিত হবেন। ২১ তারিখ যোগ দিবসের নেতৃত্ব দেবেন বাংলার মাটি থেকে। পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ অংশগ্রহণে গোটা কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্তর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তার যোগাভ্যাস কেন্দ্র সর্বোচ্চ ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে। বলা যায় পশ্চিমবাংলার পবিত্র ভূমি সিটি অফ জয় কল্যাণী কলকাতা সেদিন যোগাভ্যাসে সামিল হবে। তবে কাউকেই জোর দিয়ে এই যোগাভ্যাস করানো হবে না একথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যে স্কুলগুলিতে যোগ-কে আবশ্যিক পাঠ্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন ধীরে ধীরে হবে। সময় কথা বলবে। আপনারা ধৈর্য ধরুন, সচেতনতা বাড়ানোর কাজ আমরা প্রথমে শুরু করব।
তিনি আবারো বলেন যোগা বিশ্বে সমাদৃত। শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখে, মন ভালো রাখে। অন্য রাজ্য যে কাজ করেছে আমাদের রাজ্যেও সেই কাজ হবে। এতদিন এই রাজ্যে নেগেটিভিটি ছিল শুধুই না-না নেতিবাচক কথাবার্তা ছিল। সংকীর্ণ রাজনীতির মধ্যে দিয়ে আমরা পিছিয়ে গেছিলাম। এখন নতুন করে শুরু করা উচিত।
যোগ কে নিয়ে এই মহাসমারোহে রাজ্যে উপস্থিত হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতাপ রাও যাদব। তিনি বলেন সুস্থ জীবন এবং সম্পূর্ণ জীবন শৈলীর জন্য যোগের প্রয়োজনীয়তা অভূতপূর্ব।
সারা বিশ্বের ২৫০০টি জায়গায় এই যোগ দিবস উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে পালিত হচ্ছে। ১৫ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হচ্ছে। নানা বর্ণাঢ্য সমারহের মাধ্যমে এই যোগ দিবস পালন হচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন আপনারাও বড় সংখ্যায় অংশগ্রহণ করুন হুগলি নদীতে ৫০০টি নৌকায় যোগ প্রদর্শনী হবে। ৩০০০ ড্রোন শো-এ সাজানো সন্ধ্যায় কলকাতা ভারতের যোগ রাজধানীতে পরিণত হবে। তিনি সকলকে আমন্ত্রণ করেন এই সন্ধ্যেবেলা এবং ২১ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অথবা নিজের বাড়িতে বসে অথবা কোন পার্কে বসে, যোগাভ্যাসের জন্য। এদিন নবান্ন সভাঘরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের দুই মন্ত্রী, মুখ্য সচিবের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল (পশ্চিমবঙ্গ)অশোক কুমার। তিনি যোগমুদ্রা সম্বলিত কুড়িটি স্পেশাল স্ট্যাম্পের উদ্বোধন করেন। বন্দে মাতরম এর সঙ্গে যোগা-কে মিলিয়ে বন্দে যোগাম স্লোগান দেওয়া হয়। একটি পরিবেশনাও দেখানো হয়।

Be the first to comment