রোজদিন ডেস্ক :
গুন্ডামি করলে শুধুই জেল জরিমানা নয়, বাজেয়াপ্ত হবে সম্পত্তিও। তবে রাজনৈতিক স্বার্থে তা কখনোই ব্যবহার করা হবে না। ভাল মানুষদেরও এই নিয়ে ভয় নেই বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ বিধানসভায় জানিয়েছেন।
এই বিল নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। সিএএ নিয়ে তাঁর আন্দোলন রাজ্যে আগুন জ্বালিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন। বলেন, এই রাজ্যেই প্রথম সিএএ বিরোধী মিছিল হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে। সিঁথির মোড় থেকে সেই মিছিল করে উনিই আগুন জ্বালিয়ে ছিলেন। চাঁচলের সামসিতে রেল লাইন উপড়ে দেওয়া হয়েছিল। রেলে কি শুধু হিন্দুরা চড়ে? মুসলমানরা চড়ে না? বলে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, বেলডাঙায় স্টেশন জ্বলছে, ৫০০ হকারের দোকান পুড়েছে। আগুন লেগেছিল রেজিনগর স্টেশনেও। নিমতিতায় বহু দোকান লুট হয়েছিল। সাঁত্রাগাছিতে ২২টি সরকারি বাস-সহ ৩৭ টি বাসে আগুন ধরানো হয়েছিল। মোথাবাড়িতে বাছাই করে হিন্দুদের দোকানে আগুন দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি তীব্র কণ্ঠে অভিযোগ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই আইনের আওতায় অপরাধীদের শুধু জেল যাত্রা নয়, সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ উসুল করা হবে। বিরোধীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, বিরোধ করতে হলে ইন্ডি রাজ্যে চলে যান।
এই বিল নিয়ে আলোচনাকালে সরকার ও বিরোধীদের চাপান উতরে বিধানসভা মাঝে মাঝেই উত্তাল হয়ে ওঠে।
বিলের সপক্ষে বক্তব্য রেখে তীব্র আক্রমণাত্মক ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যে কোন ধরনের গুন্ডামি কোন ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
বলেন, বামফ্রন্ট আমলেই রাজ্যে দুর্বৃত্তায়ন শুরু। ১৯৯২ সালে পাঁশকুড়ায় গুরুদাস দাশগুপ্ত পরাজিত হওয়ার পর থেকেই সিপিএমের হার্মাদ বাহিনী রাজ্যে ক্ষমতা দখলে রাখার প্রয়াস নেয়। সুশান্ত ঘোষ, লক্ষ্মণ শেঠ-সহ একাধিক সিপিএম নেতার নাম করে তোপ দাগেন।। বলেন, এই সব করেই ওরা এখন শুন্য হয়ে গেছে। যদিও সিপিএমের একমাত্র নতুন বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানের কথা তুলে বলেন, এখন ডোমকল থেকে একজন ভদ্রলোক এসেছেন।
তৃণমূলের সমর মুখার্জি, শোভনদেব চ্যাটার্জি প্রমুখ কারোই এই নিয়ে কোন চিন্তা নেই। রাজনৈতিক স্বার্থে এই বিল ব্যবহার হবে না বলেও মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেন। তৃণমূল আমলে ব্যাপক দুর্নীতি, গুন্ডামির অভিযোগে সরব হন। তারাতলা বিপর্যয়ে ধৃত প্রাক্তন মেয়রের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক কালীচরণ ব্যানার্জির উল্লেখ করে তীব্র কন্ঠে হুঙ্কার দেন, কালির দোয়াত কে?
রাজ্যে কোন গুন্ডামি, দাঙ্গাবাজি করতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন। জানিয়ে দেন, এই আইনে কাউকে ধরা হলে এক বছর বিনা বিচারে তাদের আটক থাকতে হবে। বিক্ষোভের নামে কোন সরকারি সম্পত্তি নষ্ট বরদাস্ত করা হবে না। দাঙ্গা, বেআইনি সমাবেশ, পুলিশ পেটানো ইত্যাদি আর চলবে না বলে কড়া বার্তা দেন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভোটব্যাঙ্কের জন্য তোষণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন।
দেড় ঘণ্টার দীর্ঘ ভাষণে একের পর এক তোপ দাগেন প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে।
বিলের পক্ষে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী বিলের বিরোধিতা করে নিছক সন্দেহের বশে গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। তিনি, কুণাল ঘোষ প্রমুখ বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর আর্জি জানান।
পরে ধ্বনিভোটে তা গৃহীত হয়।
বিলের পক্ষে ১৭৬, বিপক্ষে ৪১টি ভোট পড়ে। মমতাপন্থী বিধায়করা-সহ ২০ জন ভোট দানে বিরত ছিলেন।

Be the first to comment