পিয়ালী :
গান্ধী সত্যাগ্রহের পথ অনুসরণ করে কাল কংগ্রেসের লালবাজার চলো, পুলিশ বাধা দিলে ইট বোতল নয় দেওয়া হবে গোলাপ ফুল ও চকলেট।
মনে পড়ে জর্জ বার্নার্ড শ-এর লেখা আর্মস এন্ড দ্য ম্যান নাটকের কথা। ১৮৮৫ সাল সেটা । সার্ব বুলগেরিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপট। বুলগেরিয়ান তরুণী, রায়না পেট কফ তার হবু বর মেজর সারানভ কে মহান বীর মনে করত। কিন্তু এক রাতে রাইনার ঘরে শত্রু শিবিরের (সার্বিয়ান) এক সুইস ভাড়াটে সৈনিক এসে পড়ে। যার নাম ব্ল্যান্ত্স্লি ।সে পালিয়ে রাইনার ঘরে আশ্রয় নেয়। ব্ল্যান্টস্লি পকেটে গুলির বদলে রাখতো চকলেট। সে বিশ্বাস করত যুদ্ধ দিয়ে কিছু হয় না। অস্ত্রের বদলে চকোলেট রাখা এই সৈন্যকে বলা হত চকলেট ক্রিম সোলজার।
কংগ্রেসও ঠিক একই পথে গুলি বারুদ বোমা অস্ত্রের পথ ছেড়ে ফুল ও চকোলেটের পথে হাঁটছে। তাই কংগ্রেসের চকলেট ক্রিম সোলজারেরা কাল কি করেন সেটাই দেখার।
সরকারে আসার আগে থেকেই বিজেপি স্লোগান দিয়েছিল ভরসা ইন ভয় আউট। কিন্তু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের মতে বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। ২১ জুলাই শহিদ মিনার সভার দিন তাদের বহু কর্মী-নেতাকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শহিদ মিনারে আসতে বাধা দেয় বিজেপি। এমনই অভিযোগ বারবার করেছেন শুভঙ্কর সরকার। কংগ্রেসের দলীয় ব্যানার পতাকা ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে এমনও অভিযোগ আছে।
কিন্তু শুভঙ্করবাবু বলেন, আমরা ভাঙতে নয় গড়ার জন্য রাজনীতি করি। এ বাংলার রামপ্রসাদ, জীবনানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের বাংলা।
শুভঙ্করবাবু বলেন, নতুন সরকারের কাছ থেকে আশা ছিল তারা গঠনমূলক ভাবে কাজ করবেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে পুলিশকে দিয়ে ধ্বংসাত্মক কাজ করা হচ্ছে। তাই তারা আইনের শাসন কিভাবে হওয়া উচিত তা বোঝাতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে আগামীকাল ৫ই আগস্ট সত্যাগ্রহ পথে আইন মেনে লালবাজার চলোর ডাক দিয়েছেন।
পুলিশ তাদের আটকালে হাতে থাকবে গোলাপ ফুল। এমনকি পুলিশ কর্মীদের দেওয়া হবে মেলোডি বা ক্যাডবেরি চকলেটও। বাংলায় বিরোধী দল যখন আইন অমান্য বা লালবাজার চলো ডাক দেয় তখন তা অধিকাংশ সময় হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গান্ধীজীর দল কংগ্রেসের এই গান্ধীগিরি নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।
অভয়া আন্দোলনের সময় পুলিশ কমিশনারকে মেরুদন্ডের একটি রেপ্লিকা দিয়েছিলেন ডাক্তারি পড়ুয়ারা। বোঝাতে চেয়েছিলেন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তারা মেরুদন্ড বিক্রি করে দিয়েছেন। মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক বা অন্যান্য বড় পরীক্ষার সময় অনেক সময় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিরা ছাত্র-ছাত্রীদের গোলাপ ফুল দেন। কিন্তু কংগ্রেসের এই গোলাপ ও চকলেট নিয়ে প্রতিবাদ নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ। মনে করিয়ে দেয় আরেক বর্ষিয়ান নেতা ভারতবর্ষের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর কথা। তাঁর পকেটেও থাকত গোলাপ ফুল। গোলাপ ফুল তিনিও পছন্দ করতেন। তাঁর জন্মদিন ১৪ নভেম্বর শিশুদের চকলেট ও গোলাপ ফুল দেওয়া হয়। তাই গান্ধী-নেহরুর উত্তরসূরীদের এই প্রয়াস উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া হলেও তার প্রয়োগ নিঃসন্দেহে অভিনব।
সম্প্রতি ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে মেলোডি চকলেট দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেটা ছিল আন্তর্জাতিক বিষয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই ফুল ও চকলেটের রাজনীতি নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা দূর করতে সাহায্য করবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

Be the first to comment