রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর : sidheswari-kalibari
আজ কৌশিকী অমাবস্যা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই তিথি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষত শক্তিসাধনার ক্ষেত্রে কৌশিকী অমাবস্যার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথিতেই তাঁরাপীঠের সাধক বামাক্ষ্যাপা কঠোর সাধনার মাধ্যমে মা তাঁরার দর্শন লাভ করেছিলেন। সেই স্মৃতিকে ঘিরে প্রতিবছর কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে বিশেষ আয়োজন ও পুজো অনুষ্ঠিত হয়।
কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে শুধু তাঁরাপীঠ নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের কালী ও শক্তি মন্দিরগুলিতেও ভক্তদের সমাগম লক্ষ্য করা যায়। সন্ধ্যা নামার পর থেকেই বহু মন্দিরে শুরু হয় বিশেষ পুজো, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলির আয়োজন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের ভিড়ও বাড়তে থাকে।

কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়িতেও এদিন ছিল ভক্তদের আনাগোনা। সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে পুজো দিতে আসা মানুষের ভিড় দেখা যায়। কারও হাতে পুজোর ডালা, কারও হাতে পুজোর সামগ্রীভর্তি প্যাকেট। কেউ ধূপ জ্বালিয়ে মায়ের আরাধনায় মগ্ন, আবার কেউ ভক্তিভরে মন্দিরের সামনে প্রণাম করছেন।
মন্দির চত্বরে এদিন ফুটে ওঠে ভক্তির নানা ছবি। মায়ের দর্শন ও আশীর্বাদ পেতে দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা নিয়ম মেনে পুজো দেন। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে ভক্তরা মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন। ধূপের গন্ধ, মন্ত্রোচ্চারণ এবং ভক্তদের প্রার্থনায় এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয় মন্দির প্রাঙ্গণে।

একজন আগত দর্শনার্থী থেকে জানা যায় “প্রতি বছরই কৌশিকী অমাবস্যায় এখানে আসি। মায়ের কাছে পরিবারের মঙ্গল ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছি।”
পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ। মন্ত্রপাঠের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন উপস্থিত সকলে। ধূপের সুগন্ধ, মন্ত্রোচ্চারণ এবং পুজোর আচার-অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি।

পুরোহিত সৌমিত্র মুখার্জি জানান, “কৌশিকী অমাবস্যার বিশেষ তিথিতে মায়ের আরাধনার জন্য বহু মানুষ এখানে আসেন। নিয়ম মেনে পুজো ও পুষ্পাঞ্জলির আয়োজন করা হয়েছে।”
মন্দিরের এই বিশেষ দিনের আয়োজন ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও দেখা যায় উৎসাহ।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “কৌশিকী অমাবস্যায় প্রতিবছরই এখানে ভালো ভিড় হয়। সন্ধ্যার পর থেকে মন্দির চত্বরে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”
কৌশিকী অমাবস্যার এই বিশেষ তিথিতে সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়িতে ভক্তদের এই সমাগম আরও একবার তুলে ধরল কৃষ্ণনগরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ছবি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরে ভক্তদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। মায়ের কাছে প্রার্থনা, পুজো এবং আশীর্বাদ লাভের আশায় কৌশিকী অমাবস্যার রাতজুড়ে চলবে ভক্তদের আনাগোনা।

Be the first to comment