শোক কাটিয়ে উঠতে পারল না বছর সতেরোর মেয়েটা। প্রেমিকের দুর্ঘটনায় মৃত্যুর আট দিনের মাথায় নিজেকে শেষ করে দিল। ঝুলে পড়ল গলায় ওড়না জড়িয়ে।
পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার যুবক নিত্যানন্দ দাস অনেক স্বপ্ন নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন। সরকারি চাকরির পরীক্ষার সিট পড়েছিল তাঁর। আগের দিন এসে ছিলেন বেলঘরিয়ায় মাসির বাড়িতে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাসির বাড়ি থেকে বেরিয়ে দমদমে আসেন নিত্যানন্দ। ওঠেন ডাউন কৃষ্ণনগর লোকালে। দাঁড়িয়ে ছিলেন দরজার সামনেই। দমদম ছাড়ার পর ট্রেনটা গতি নিতেই পড়ে যান তিনি। মৃত্যু হয় তাঁর। মঙ্গলবার সকালে সেই শোকে আত্মহত্যা করল নিত্যানন্দের প্রেমিকা, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী শ্রেয়সী মাইতি।
এ দিন সকালে শ্রেয়সীদের বাড়িতে কেউ ছিলেন না। তার বাবা গেছিলেন তর্পণ করতে আর মা বাজারে। দেবাঁধি-মির্জাপুরের বাড়িতে একাই ছিল শ্রেয়সী। পরিবারের লোক জানিয়েছেন, বাড়িতে ফিরে শ্রেয়সীর মা মেয়েকে দেখতে না পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। সিঁড়ি দিয়ে চিলেকোঠার ঘরে যাওয়ার সময়ই দেখতে পান গলায় ওড়না জড়িয়ে ঝুলছে মেয়ে। এরপর প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি করে তাকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এগরা ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। সেখানেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
জানা গিয়েছে, নিত্যানন্দের কাছে প্রাইভেট টিউশন পড়তে যেত শ্রেয়সী। বাড়ির লোকও এই সম্পর্কের বিষয়টি জানত না। পরিবারের এক সদস্য বলেন, নিত্যানন্দ মারা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে শ্রেয়সী। তখনই সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু সেই শোক সামলাতে না পেরে শ্রেয়সী যে এমন একটা কাণ্ড ঘটাবে তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কেউ।

Be the first to comment