ঘূর্ণিঝড় তিতলি-র দাপটে শুক্রবার বাংলার ৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করল আবহাওয়া দফতর। সন্ধ্যায় আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হল, প্রবল বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড়ও হতে পারে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গ মিলিয়ে এই ৯ জেলায়। এছাড়া আরও পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া বৃহস্পতিবার রাত থেকে এই জেলাগুলিতে ঝড়ের গতি বাড়তে পারে। ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া।
প্রশ্ন হল, অরেঞ্জ অ্যালার্ট বা কমলা সতর্কতা কী?
আবহাওয়ার ক্ষেত্রে অরেঞ্জ অ্যালার্টের অর্থ,- ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। মানে ১৫ থেকে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। এবং কয়েক ঘন্টা ধরে নাগাড়ে বৃষ্টির কারণে সেক্ষেত্রে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উপদ্রুত এলাকা থেকে মানুষজন এবং গৃহপালিত পশু উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হয় সরকারকে।
শনিবার তিতলির দাপটে বাংলায় তেমন হতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। আবহাওয়া দফতর থেকে বলা হয়েছে, দুই ২৪ পরগণা, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শনিবার ৭ থেকে ২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে এই ৯ জেলায়। পাশাপাশি পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, মালদহ এবং দুই দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোর বেলাতেই ঘূর্ণিঝড় তিতলি আছড়ে পড়ে ওড়িশার গোপালপুর উপকূলে। ঝড়ের গতিবেগ তখন ছিল ঘন্টায় ১২৬ কিলোমিটার। ঘন্টা কয়েকের মধ্যেই ওড়িশার আট জেলা ঝড় বৃষ্টিতে তছনছ হয়ে যায়। ঘর বাড়ি ভেঙে, গাছ উপড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে বহু জেলায়। এ দিন ঝড় বৃষ্টি সব থেকে বেশি হয়েছে পুরী, গঞ্জাম ও গজপতি জেলায়। গজপতি জেলায় ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। সেখানে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২০০ মিলিমিটার। মোহনা ব্লকে বৃষ্টি হয়েছে ৩১৫ মিলিমিটার। ১১১২ টি ত্রাণ শিবিরে মোট তিন লক্ষ মানুষকে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করে আশ্রয় দিয়েছে ওড়িশা সরকার। এর মধ্যে স্রেফ গঞ্জাম জেলাতেই ১১৫ জন গর্ভবতী মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ওড়িশার পাশাপাশি তিতলির দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামও। অন্যদিকে তিতলির প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উত্তাল হয়ে উঠেছে দীঘা, মন্দারমণির সমুদ্রও। এই অবস্থায় নবান্নের তরফে মৎস্যজীবীদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শুক্রবার তাঁরা যেন সমুদ্রে না যান। একই দীঘা, মন্দারমণিতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান করতে নামতেও নিষেধ করা হয়েছে।

Be the first to comment