ভারত-আমেরিকার সুঠাম সম্পর্কের যে দাবি করে আসছিলেন মোদী সেই দাবিতে কার্যত জল ঢেলে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।২৬ জানুয়ারি ভারতের বিশেষ অতিথি হয়ে আসবেন না তিনি। যা সরাসরি জানিয়ে দিল হোয়াইট হাউস।
অগাস্ট মাসের আগেই ভারতের তরফ খেকে আমন্ত্রণ পত্র পায় আমেরিকা। সেই কথা উল্লেখ করেই সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস জানায়, আমন্ত্রণ পত্র অনেক আগে মিললেও জানুয়ারিতে ভারতে যেতে পারবেন না ট্রাম্প। অবশ্য, বিষয়টি নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি বিদেশ মন্ত্রক।
প্রজাতন্ত্র দিবসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারতে আসার খবর এক কথায় পাকাপাকি ভাবে জানিয়ে দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও বিশ্বাস ছিল ভারত-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্ক ট্রাম্পের ভারত সফরে অনেক বেশি ইতিবাচক হবে। কিন্তু, অক্টোবরের শুরু থেকেই ট্রাম্পের ভারতে আসা নিয়ে মুখ খোলেনি হোয়াইট হাউস। শনিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্পের না আসার খবর দিলেন সাদা বাড়ির অন্যতম আধিকারিক সারা সান্ডের্স বলে জানা যাচ্ছে।
স্টেট অফ ইউনিয়নের শীতকালীন অধিবেশনের কারণ দেখিয়েই ভারত সফর স্থগিত রেখেছেন ট্রাম্প। তবে, কূটনৈতিক মহলের দাবি, ভারতের ইরানের থেকে তেল আমদানি জারি রাখাই ট্রাম্পের সফর বাতিলের অন্যতম কারণ। নভেম্বরের মধ্যেই ইরানকে তেল ব্যবসায় কোনঠাসা করতে চেয়েছিল আমেরিকা। গত ৬ মাস ধরে বিভিন্ন দেশকে ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে বলেন ট্রাম্প। সেই তালিকায় ভারতও ছিল।
বিভিন্ন দেশ আমেরিকার কথা মেনে চললেও, এখনও পর্যন্ত ইরান নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি ভারত। সেখান থেকেই ভারতের সঙ্গে আমেরিকার দূরত্ব বাড়ে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশপাশি, আমেরিকার চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করেই রাশিয়ার থেকে S-400 মিসাইল কিনবে বলে জানিয়েছে ভারত। সবমিলিয়েই ভারতের উপর আমেরিকার গুপ্ত রাগ রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
স্টেট অফ ইউনিয়নের সভাকে কারণ দেখিয়ে ট্রাম্পের না আসাকেও যুক্তিহীন মনে করা হচ্ছে। কারণ, ২০১৫ সালে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্টেট অফ ইউনিয়নের সভাতে না গিয়েই প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের বিশেষ অতিথির আমন্ত্রণ গ্রহন করেছিলেন

Be the first to comment