মুখ্যমন্ত্রীকে একের পর এক তোপ, বিজেপি কে সুযোগ দেওয়ার জন্য আবেদন অমিত শাহের

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : নজরে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। সেই লক্ষ্যে আজ কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে একের পর এক তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যে একবার বিজেপিকে সুযোগ দিতে রাজ্যবাসীর কাছে করজোড়ে আবেদনও জানালেন তিনি। রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আমলে গত চোদ্দ বছরের শাসনের একের পর এক “কালো” দিক সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর সেনাপতি। অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, নারী নিরাপত্তার অভাব, শিল্পে খরা, আইন শৃঙ্খলার অবনতি, অপশাসন ইত্যাদি কিছুই বাদ দেননি। তীব্র কটাক্ষে বিঁধেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদককেও।
গত কয়েকটি নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান পেশ করে দৃঢ়ভাবে অমিত শাহ বলেন, আগামী বছর রাজ্যে তাঁদের সরকারই আসবে। এই সরকারের নেতৃত্বে রাজ্যের বিকাশ বন্ধ। সারা দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে, এখানে কাটমানির কারণে তা বন্ধ হয়ে গেছে বলে তোপ দাগেন। সারা দেশে একমাত্র এই রাজ্য সরকারই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দেয়নি বলে জোরের সঙ্গে দাবি করেন। এই রাজ্যের অতীত গৌরবময় ঐতিহ্যর কথা তুলে ধরে বলেন, সেই হৃত গৌরব তাঁরাই ফিরিয়ে আনবেন।
ভিড়ে ঠাসা সাংবাদিক বৈঠক শুরুই করেন আম বাংলার প্রিয় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রসঙ্গ তুলে। আবেগের সঙ্গে বলেন, “আজ ৩০ ডিসেম্বর, সব ভারতীয়র গৌরবের দিন। আজকের এই দিনে ১৯৪৩ সালে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু পোর্ট ব্লেয়ারে আজাদ হিন্দ বাহিনীর পতাকা উড়িয়েছিলেন। এই ঘটনা স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন।”

এর পর রাজ্যে অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, অপশাসন, শিল্পে খরা ইত্যাদি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে নিশানা করে অভিযোগের আঙুল তোলেন অমিত শাহ। তীব্র স্বরে বলেন, এই রাজ্যের সরকার অনুপ্রবেশের জন্য নিজেদের জমি দিয়ে দিচ্ছে। যা সারা দেশের জন্যই বিপজ্জনক। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, কেন রাজ্য সরকার সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দিচ্ছে না? এই সুযোগে অনুপ্রবেশকারীরা এদিকে এসে গ্রামে গ্রামে ও প্রবেশ করছে। সেখানে এই রাজ্যের পুলিশ কি করছে বলে প্রশ্ন তোলেন।
তাঁর দাবি, ত্রিপুরা, গুজরাট, রাজস্থান, পঞ্জাবে অনুপ্রবেশ হয় না। এই রাজ্যে অনুপ্রবেশ হয় কারণ মমতা ব্যানার্জি র সরকার একে সমর্থন করে বলে তিনি তোপ দাগেন। রাজ্যের মানুষ এর পরিবর্তন চাইছে দাবি করে অমিত শাহ বলেন, এটি শুধু এই রাজ্যই নয়,সারা দেশের সুরক্ষা, সংস্কৃতি বাঁচানোর লড়াই, সীমান্ত বন্ধ করতেই হবে এবং একমাত্র বিজেপিই তা পারবে বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অনুপ্রবেশ কে যে তাঁরা অন্যতম ইসু করবেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যে তা স্পষ্ট।
টিএমসি আমলে একের পর এক মন্ত্রী, নেতাদের দুর্নীতি নিয়েও তোপ দাগেন অমিত শাহ। নাম করে বলেন, পার্থ চ্যাটার্জি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, কুণাল ঘোষ, অনুব্রত মন্ডল প্রমুখ জেলে গেছেন। চন্দ্রনাথ মন্ডল, পরেশ অধিকারী প্রমুখের দুর্নীতির কথা বলেন। এখানকার মন্ত্রীর বাড়ি থেকে ২৭ কোটি টাকা কেন পাওয়া যায় মুখ্যমন্ত্রী কি তার উত্তর দেবেন বলে প্রশ্ন করেন। দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রী, নেতাদের তালিকা দিতে গেলে সারাদিন চলে যাবে বলে তীব্র কটাক্ষ করেন।

এই রাজ্য-সহ দেশব্যাপী সাড়া জাগানো আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস ধর্ষণ, খুনের প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে আসে। বলেন, রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নেই। আর জি কর, সন্দেশখালি, দুর্গাপুর, কসবা আইন কলেজ সহ নানা ঘটনা সামনে আসছে। এই রাজ্যের মায়েরা ও ভোট দিয়ে সরকার বদলানোর প্রহর গুনছেন বলে জানান।
রাজ্যে সাম্প্রদায়িক তোষণকে তৃণমূল চরমে নিয়ে গেছে বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অমিত শাহ বলেন, হিন্দুদের মনে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, কোন ও মলমেই ওরা তা সারাতে পারবে না।
রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা, গণতন্ত্র নেই বলে তোপ দেগে অমিত শাহ বলেন, ৩০০-র বেশি বিজেপি কর্মী এখানে খুন হয়েছেন। ৩ হাজারের বেশি কর্মী ঘরছাড়া৷ তাঁর প্রশ্ন, এই রাজ্যে কেউ নিজের পছন্দের রাজনৈতিক দলও করতে পারবেন না? সংবিধানের মুল কাঠামোকেও টিএমসি অপমান করছে বলে তাঁর অভিযোগ। নাম না করে টিএমসি-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে ঠুকে বলেন, এখানে রোজগার করার অধিকার একমাত্র ভাইপোর আছে।
রাজ্যের অতীত গৌরব, ঐতিহ্যর কথাও তুলে ধরেন অমিত শাহ। বলেন, দেশের প্রথম মোটর কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রো রেল, চটকল, বহুতল, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি অনেক কিছুই আগে এখানে হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল রাজ্যকে পিছিয়ে দিচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এরা রাজ্যকে শেষ করে দিয়েছে। ৭ হাজারের বেশি সংস্থা এখান থেকে চলে গেছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, শহিদ ক্ষুদিরাম বসু, রাসবিহারী বসু প্রমুখ মণীষীদের উল্লেখ করে তিনি বলেন,বহু শিল্পী, সন্ত লেখকের ভূমি এই রাজ্য। অনুপ্রবেশ বন্ধ না হলে এখানকার সব সংস্কৃতি, এমন কি অস্তিত্বও নষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। তাঁর কথায়, এই সব কিছুর থেকে বাংলাকে রক্ষা করার একটি ই নিদান বিজেপি র সরকার কে ক্ষমতায় আনা। করজোড়ে তিনি বলেন,কংগ্রেস, বামফ্রন্ট, তৃণমূল সবাইকে সুযোগ দিয়েছেন রাজ্যের মানুষ। বাংলা শুধু পিছিয়েই গেছে, নেমেছে জিডিপি, এবার সব কিছু একদিকে রেখে তিনি বিজেপিকে ভোট দিয়ে জয়ী করার আহবান জানান।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*