সরকারি জমিতে মন্দির কেন, প্রশ্ন প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : শিলিগুড়ির কাছে মহাকাল মন্দির তৈরির সরকারি উদ্যোগকে তীব্র সমালোচনা করলেন প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য। সরকারের এই সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগকে তিনি অসাংবিধানিক বলে জানান। বলেন, সরকার কখনোই মন্দির তৈরি করতে পারে না। আর যে জমিতে এই মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিয়েছে তা ও ঠিক নয়। অশোক বাবু বলেন, ২০০৩ সালে বিভিন্ন আইনি জট কাটিয়ে ওই জমি শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ) পায়। এখন এর বাজার দর প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। এখানে কোন শিল্প স্থাপন হলে বহু টাকা বিনিয়োগ হত। বহু জনের কর্মসংস্থান হত। সেই সব না করে মহাকাল মন্দির করার সিদ্ধান্তের তিনি তীব্র বিরোধিতা করেন।
প্রাক্তন পুরমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, এসজেডিএ-র বহু জমি এই রাজ্য সরকার নষ্ট করেছে। মাটিগাড়া, বড় ও ছোট পথুতে একইভাবে জমি ফেলে রাখা হয়েছে। কাওয়াখালিতে এসজেডিএ-র একটি জমি ১ টাকার বিনিময়ে হিডকোকে দেওয়া হয়। সেই জমি হিডকো অন্য এক সংস্থাকে বিক্রির পর সেখানে এখন বিলাসবহুল উপনগরী হচ্ছে। এতে তাঁর কোন আপত্তি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, তবে এই উপনগরীর কাজ হিডকো নিজেরা করতো অনেক ভাল হত, রাজ্য সরকারও লাভবান হত বলে অশোক বাবু জানান।
উল্লেখ্য, দার্জিলিং সফরে গিয়ে শিলিগুড়ির কাছে মহাকাল মন্দির তৈরির ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
চলতি সপ্তাহে রাজ্য মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদনের পর কোথায় তা নির্মিত হবে, তাও ঠিক হয়েছে।
এর আগে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ করে তা পরিচালনার জন্য ইসকনকে দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওখানে দিনে চার লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে বলে পরিচালনা সংস্থার দাবি। এবার মহাকাল মন্দির করতে রীতিমত উৎসাহী সরকার। সরকারি খরচে মন্দির নির্মাণ নিয়ে অনেকেরই আপত্তি আছে। যদিও সরকার তা আমল দিতে রাজি নয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*